শেষ বাঁশি বাজতেই বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের চেহারায় হতাশার ছাপ স্পষ্ট। কেউ মাঠে বসে পড়েন, কেউ আবার কিছুক্ষণ স্থির দাঁড়িয়ে থাকেন। প্রথমবার নারী এশিয়ান কাপ খেলা বাংলাদেশের মিশন আজই শেষ হয়েছে।
‘বি’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশকে জিততেই হতো উজবেকিস্তানের বিপক্ষে। শুধু জেতাই যথেষ্ট নয়, অন্য গ্রুপের ফলাফলের ওপরও নির্ভর করছিল তাদের কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা। কিন্তু নিজের কাজও ঠিকভাবে করতে পারল না বাংলাদেশ। উজবেকিস্তানের কাছে ০-৪ গোলে হেরে মাঠ ছাড়তে হলো।
প্রথমার্ধ শেষে বাংলাদেশ ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিল। দ্বিতীয়ার্ধে সমতা ফেরানোর চেষ্টা করলেও উল্টো আরও তিনটি গোল হজম করতে হলো। বিশেষ করে ৬২ ও ৬৬ মিনিটে চার মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোল আসে, যা মূলত বাংলাদেশের ডিফেন্ডারদের ভুলে হয়। ৮৭ মিনিটে আরেকটি গোল খেয়ে বাংলাদেশ বড় হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে। তবে ভিএআর ব্যবহারে উজবেকিস্তানের একটি গোল বাতিল হয়, যখন গোলরক্ষক মিলি আক্তার থেকে বল ছিনিয়ে নিয়ে গোল করা হয়।
দ্বিতীয়ার্ধে শামসুন্নাহার, প্রীতি ও হালিমাকে নামিয়েও বাংলাদেশের কোচ পিটার বাটলার দলের খেলার চিত্র বদলাতে পারেননি। সুইডিশ প্রবাসী আনিকা আজ প্রথম একাদশে থাকলেও তার পারফরম্যান্স তেমন চোখে পড়ার মতো ছিল না।
বাংলাদেশ এই ম্যাচে কোয়ার্টার ফাইনাল এবং বিশ্বকাপের স্বপ্ন বাঁচাতে নেমেছিল। কিন্তু উল্টো ৪ গোল হজম করে উজবেকিস্তান এগিয়ে গেছে। তিন ম্যাচ শেষে তাদের পয়েন্ট তিন এবং গোল ব্যবধান -২। ‘এ’ গ্রুপের ফিলিপাইনও একই পয়েন্ট ও গোল ব্যবধান রাখছে। ‘সি’ গ্রুপে জাপানের ভিয়েতনামের উপর বড় ব্যবধানের জয় উজবেকিস্তানের কোয়ার্টার ফাইনালের পথ আরও সুগম করবে।
বাংলাদেশের ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলারের হাই লাইন ডিফেন্স ইতিমধ্যেই সমালোচিত। আজ সেই কৌশলই উল্টো বিপর্যয় ডেকে আনে। উজবেকিস্তানের ফরোয়ার্ডরা বারবার বাংলাদেশের ডিফেন্স ভেঙেছে, এবং গোলরক্ষক মিলি আক্তার একাধিকবার একা হয়ে পড়েন। বাংলাদেশ ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৫৫ নম্বরে থাকা মিয়ানমারকে হারিয়ে এশিয়া কাপে উঠেছিল, তাই ৪৯ নম্বর র্যাঙ্কিংয়ের উজবেকিস্তানকে হারানোর আশা ছিল।
প্রথমার্ধে বলের দখলে বাংলাদেশ কিছুটা এগিয়েছিল। ৩০ মিনিটে ঋতুপর্ণা কৌশলে বল নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শক্তিশালী শট করেন। উজবেক গোলরক্ষক মাফতুনা সেই শট আটকাতে এক হাত দিয়ে লাফ দেন। প্রথমার্ধের শেষ পাঁচ মিনিটে বাংলাদেশ চাপ বাড়ায়। তহুরা খাতুন বক্সে ভালো অবস্থান থেকে শট নেন, বল ফিরে আসে কোহাতি কিসুর কাছে, কিন্তু পোস্টে রাখতে ব্যর্থ হন।
এছাড়া মারিয়া মান্দাও বক্সের সামনে বুদ্ধিদীপ্ত শট নেন, যা সামান্য ফারাক দিয়ে উজবেকিস্তানের পোস্টের উপর দিয়ে যায়। তবে এই সুযোগগুলো গোল করতে না পারায় বাংলাদেশ প্রথমবারের নারী এশিয়ান কাপের মিশন শেষ করে।