ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় শুরু হচ্ছে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) ৯০তম ত্রিপক্ষীয় আলোচনা। আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনটি আগামী শনিবার পর্যন্ত চলবে।
বৈঠকে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে গতকাল বুধবারই বাংলাদেশের ছয় সদস্যের একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল কলকাতায় গিয়ে পৌঁছেছে।
এবারের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের সদস্য মোহাম্মদ আনোয়ার কাদীর। তাঁর সাথে প্যানেলে রয়েছেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের হাইড্রোলজি বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন, বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের পরিচালক মো. আবু সৈয়দ, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মো. শামসুজ্জামান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া উইংয়ের পরিচালক মোহাম্মদ বাকী বিল্লাহ এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রুমানুজ্জামান।
এর বাইরেও এই আলোচনায় যুক্ত হতে পারেন নয়াদিল্লিতে অবস্থানরত বাংলাদেশ হাইকমিশনের রাজনৈতিক কাউন্সেলর মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন এবং কলকাতায় বাংলাদেশ উপদূতাবাসের দ্বিতীয় রাজনৈতিক সচিব মোহাম্মদ ওমর ফারুক আকন্দ।
অন্যদিকে ভারতীয় পক্ষের প্রতিনিধি দলের হাল ধরবেন দেশটির কেন্দ্রীয় পানিসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের সেচ বিভাগের একজন প্রধান প্রকৌশলী।
দুই দেশের এই দাপ্তরিক আলোচনার মূল এজেন্ডা হিসেবে ধরা হচ্ছে ঐতিহাসিকভাবে চলে আসা গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির নবায়ন প্রক্রিয়া। ১৯৯৬ সালে সম্পাদিত সেই চুক্তির নির্ধারিত সময়সীমা আগামী ৩১ ডিসেম্বর শেষ হতে যাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার আগে যৌথ নদী কমিশনের এটাই শেষ আনুষ্ঠানিক বৈঠক।
কর্মসূচির প্রথম দিনেই আজ সকালে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলটি মুর্শিদাবাদ অঞ্চলের উদ্দেশ্যে রওনা দেবে।
সেখানে ফারাক্কা বাঁধ সংলগ্ন এলাকায় গঙ্গা নদীর পানির প্রকৃত প্রবাহ সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ ও পরিমাপ করবেন দ্বিপাক্ষিক কর্মকর্তারা। এই প্রক্রিয়া শেষে প্রতিনিধি দলটি পুনরায় কলকাতায় ফিরে এসে একটি অভিজাত হোটেলে মূল বৈঠকে অংশ নেবে।
স্মর্তব্য যে, ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে ঐতিহাসিক গঙ্গা চুক্তিটি সই হয়েছিল। ৩০ বছর মেয়াদি সেই সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী, প্রতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত চলমান শুষ্ক মৌসুমে দুই দেশের মধ্যে সুনির্দিষ্ট পরিমাপে পানি ভাগাভাগির নিয়ম রয়েছে।
চুক্তির ধারা মোতাবেক, গঙ্গায় যদি পানির প্রবাহ ৭৫ হাজার কিউসেক ছাড়িয়ে যায়, তবে ভারত ৪০ হাজার কিউসেক পাবে এবং বাকি অংশ পাবে বাংলাদেশ।
আবার প্রবাহ যদি ৭০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার কিউসেকের ভেতরে অবস্থান করে, তবে বাংলাদেশের হিস্যা হবে ৪০ হাজার কিউসেক এবং অবশিষ্ট পানি পাবে ভারত। আর প্রবাহ কোনো কারণে ৭০ হাজার কিউসেক বা তার নিচে নেমে এলে দুই দেশই সমপরিমাণ পানি বণ্টন করে নেবে।