রবিবার, 18 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

ভারতে কোচিং সেন্টারে ভয়াবহ আগুন, নিহত ১৫

ভারতের উত্তর প্রদেশের লখনউ শহরের আলিগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত একটি কোচিং সেন্টারে বিধ্বংসী আগুনের ঘটনায় অন্তত ১৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। গত সোমবার উষা মেহতা রোডের একটি তিনতলা ভবনে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

ভারতে কোচিং সেন্টারে ভয়াবহ আগুন, নিহত ১৫
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের উত্তর প্রদেশের লখনউ শহরের আলিগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত একটি কোচিং সেন্টারে বিধ্বংসী আগুনের ঘটনায় অন্তত ১৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

গত সোমবার উষা মেহতা রোডের একটি তিনতলা ভবনে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। আগুন লাগার পর মুহূর্তের মধ্যে পুরো ভবনটি কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এবং ভেতরে আটকা পড়ে শ্বাসকদ্ধ হয়ে ও দগ্ধ হয়ে এতগুলো মানুষের মৃত্যু হয়।

এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক ট্র্যাজেডির পর থেকে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ থেকে জানা গেছে, ভবনের নিচতলায় আগুন লাগার পর তা অত্যন্ত দ্রুত ওপরের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে ওপরের তলায় থাকা বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দা দোতলা থেকে নিচে লাফিয়ে পড়েন। বহুতল ওই ভবনটির নিচতলায় একটি পোষা প্রাণীর বিপণিবিতানসহ বেশ কিছু বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ছিল এবং এর ঠিক ওপরের তলাতেই কোচিং সেন্টারটির কার্যক্রম পরিচালিত হতো।

ভয়াবহ এই ঘটনার পর উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। উত্তর প্রদেশের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক গণমাধ্যমকে জানান, ভবনের ভেতরে বেশ কিছু শিক্ষার্থী আটকা পড়ার খবর পাওয়ার পরপরই তল্লাশি দল প্রতিটি কক্ষে প্রবেশ করে আটকে পড়াদের উদ্ধারে সর্বাত্মক চেষ্টা চালায়।

দমকল বাহিনীর সদস্যরা দীর্ঘ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর পার্শ্ববর্তী একটি বহুতল ভবনের ছাদ ও জানালা ব্যবহার করে স্ট্রেচার ভেতরে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। এমনকি উদ্ধারকাজ দ্রুত ও সহজ করতে ভবনের শক্ত দেয়ালে বড় আকারের ছিদ্র করা হয়। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, ভবনের বিভিন্ন অংশে এখনো চার থেকে পাঁচজন ব্যক্তি আটকা পড়ে থাকতে পারেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের উপ-মুখ্যমন্ত্রী জানান, জীবন বাঁচানোর এই তৎপরতা একদম শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে এবং ভেতরে থাকা প্রতিটি শিশুকে অক্ষত ও নিরাপদে বের করে আনাই প্রশাসনের একমাত্র অগ্রাধিকার। ইতিমধ্যে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ভবনের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত ও ঘন ধোঁয়া বের করে দিতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা শক্তিশালী এক্সহস্ট ফ্যান ব্যবহার করছেন এবং পাশের বাড়ির দেয়াল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে বাথরুমসহ প্রতিটি কোণায় তল্লাশি চালাচ্ছেন।

হৃদয়বিদারক এই দুর্ঘটনায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গভীর দুঃখ ও তীব্র শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। একই সাথে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে মৃতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২ লাখ রুপি এবং চিকিৎসাধীন গুরুতর আহতদের ৫০ হাজার রুপি করে জরুরি আর্থিক অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

অন্যদিকে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও এই প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সব ধরনের সহযোগিতা করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন। এর পাশাপাশি অগ্নিদগ্ধ ও আহতদের সর্বোত্তম ও নিখরচায় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বিশেষ তাগিদ দিয়েছেন তিনি।