শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

ভেনেজুয়েলায় পরপর শক্তিশালী ২ ভূমিকম্প, জরুরি অবস্থা জারি

ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে ভেনেজুয়েলা। দেশটিতে এক মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে আঘাত হেনেছে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ভেনেজুয়েলায় পরপর শক্তিশালী ২ ভূমিকম্প, জরুরি অবস্থা জারি

ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে ভেনেজুয়েলা। দেশটিতে এক মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে আঘাত হেনেছে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে পরপর ভূমিকম্প দুটি আঘাত হানে। সরকারি ছুটির দিন থাকায় ওই সময় বেশিরভাগ মানুষ নিজেদের বাড়িতেই ছিলেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২। এর উৎপত্তিস্থল ছিল রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ১৬৮ কিলোমিটার পশ্চিমে ক্যারিবীয় উপকূলীয় শহর মোরনের পশ্চিমাঞ্চলে। ভূপৃষ্ঠ থেকে ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ২২ কিলোমিটার।

এর কিছুক্ষণের মধ্যেই আঘাত হানা দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৫। এর কেন্দ্র ছিল মোরন শহরের ১৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং এটি ছিল অপেক্ষাকৃত অগভীর, মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে।

জোড়া ভূমিকম্পের তীব্রতায় রাজধানী কারাকাসসহ পুরো ভেনেজুয়েলা কেঁপে ওঠে। এমনকি প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতাতেও কম্পন অনুভূত হয়েছে।

ভূমিকম্পের পর আতঙ্কিত মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। বেশ কিছু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

পরপর শক্তিশালী ভূমিকম্পের পাশাপাশি ২০টির বেশি আফটারশক অনুভূত হওয়ায় ভেনেজুয়েলায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট। এ ঘটনায় দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

দেলসি রদ্রিগেজ জানান, অবকাঠামোগত ক্ষতির কারণে কারাকাসের মাইকেটিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে।

এদিকে ভূমিকম্পের পর ক্যারিবীয় অঞ্চলে জারি করা সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়েছে। মার্কিন জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, পুয়ের্তো রিকো ও ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জে বর্তমানে আর কোনো ঝুঁকি নেই।

এর আগে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও বড় ঢেউয়ের আশঙ্কায় এসব দ্বীপের উপকূলীয় এলাকায় বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। তবে কয়েক ঘণ্টা পর পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়।