ভোটের মাঠে অনিয়ম ঠেকাতে ভোটারদের সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, ভোটকেন্দ্র দখল ও ভোট চুরির পরিকল্পনা চলছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দেবিদ্বার উপজেলার সুবিল ইউনিয়নের ওয়াহেদপুর ঘোষাই বাড়ি মাঠে আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে তিনি এসব অভিযোগ তোলেন।
বক্তব্যে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “অনেকেই এখন ভোটকেন্দ্র দখল ও ভোট চুরির পরিকল্পনা করছে, যারা এ পরিকল্পনা করছেন আপনারা সাবধান হয়ে যান।”
উপস্থিত ভোটারদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “এখানে যারা আছেন, আপনারা ফজরের নামাজ পড়েই ভোটকেন্দ্রে পাহারায় যাবেন। যারা ভোটকেন্দ্র দখল করতে আসবে তাদের নেতাদের পাঞ্জাবি ছিঁড়ে কর্মীদের বেঁধে পুলিশে দেবেন।
‘এবার ভোট চুরি প্রতিহত করতে রাজনৈতিক নেতার দরকার নেই; যারা জুলাই আন্দোলনে রাস্তা নেমে এসেছে তারাই ঠেকাবে।’”
ছাত্র আন্দোলনের সময় নারী অংশগ্রহণের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “জুলাই আন্দোলনের সময় আমার মা বোনেরা রাস্তার মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে আমাদের পানি খাইওয়াইছে তারাই এবার ভোট চুরি ঠেকাবে।
‘এই বাংলাদেশে ভোট চুরির রাজনীতি হাসিনার পালানোর পর পর শেষ হয়ে গেছে। যারা এই ভোট চুরি ও কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করবে তাদেরকেও হাসিনার পরিণতি ভোগ করতে হবে।’”
গণভোট প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “একটি দল গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিলে সংবিধানে বিসমিল্লাহ থাকবে না বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে, হ্যাঁ ভোটের শর্তের কোথাও কি এই কথা লেখা আছে? আপনারা নির্বাচনে দুটি ভোট দিবেন একটি শাপলাকলি আরেকটি হ্যাঁ ভোট। পরবর্তী বাংলাদেশের বিনির্মাণ হ্যাঁ ভোটের উপর নির্ভর করে গড়ে উঠবে।”
সুবিল ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই উঠান বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম শহীদ এবং দেবিদ্বার উপজেলা জামায়াতের আমীর মো. শহীদুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কুমিল্লা জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি জামসেদ হোসেন, মাওলানা মো. মোফাজ্জল হোসেন, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. শরীফুল ইসলাম সরকার এবং উপজেলা এনসিপির সার্চ কমিটির সভাপতি সমাঈল হোসেনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।