রবিবার, 18 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

‘যারা ইনসাফের কথা বলে তারা আমাকে হাইকোর্টের দরজায় ঘুরিয়েছে’-

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সারোয়ার আলমগীর অভিযোগ করেছেন, মিথ্যা ঋণখেলাপির অপবাদ দিয়ে তাকে জাতীয়ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে। একই সাথে বিগত চার মাস ধরে তাকে আইনসভায় আসতে না দিয়ে ফটিকছড়ির সর্বস্তরের জনগণকে তাদের প্রাপ্য অধিকার ও উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে।

‘যারা ইনসাফের কথা বলে তারা আমাকে হাইকোর্টের দরজায় ঘুরিয়েছে’-
ছবি : সংগৃহীত
চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সারোয়ার আলমগীর অভিযোগ করেছেন, মিথ্যা ঋণখেলাপির অপবাদ দিয়ে তাকে জাতীয়ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে। একই সাথে বিগত চার মাস ধরে তাকে আইনসভায় আসতে না দিয়ে ফটিকছড়ির সর্বস্তরের জনগণকে তাদের প্রাপ্য অধিকার ও উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার সংসদ অধিবেশনে প্রথমবার অংশ নিয়ে নিজের স্বাগত বক্তব্যে তিনি এসব ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, যারা সবসময় ন্যায়বিচার ও ইনসাফের কথা বলেন, তারাই তাকে সুপ্রিম কোর্টের দরজায় দরজায় ঘুরিয়েছেন। অথচ ইনসাফের কথা বলা ওই পক্ষের প্রার্থী নির্বাচনে তার প্রাপ্ত ভোটের অর্ধেকও পাননি। জনগণই যদি সকল ক্ষমতার উৎস হয়ে থাকে, তবে কেন তাকে ব্যালটের লড়াইয়ে জেতার পরও আবার আদালত থেকে রায় নিয়ে নিজের অধিকার আদায় করতে হলো—সে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

নিজের বক্তব্যে তিনি আরও উল্লেখ করেন, তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যাংকের পক্ষ থেকে কোনো মামলা ছিল না, অথচ তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ঋণখেলাপি বানানো হয়েছে। তিনি দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত হয়ে সংসদে এসেছেন জানিয়ে বলেন, ফটিকছড়ির জনগণ বিপুল ভোটে তাকে জয়ী করে এই আসনটি তারেক রহমানকে উপহার দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে চট্টগ্রাম-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়ন বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার লক্ষ্যে আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। তার রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট তাকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দিতে নির্দেশ দেন।

তবে হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন একই আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ এক আদেশে জানায়, সরোয়ার আলমগীর নির্বাচনে জয়ী হলেও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার ফলাফল স্থগিত থাকবে। পরবর্তীতে গত ৩১ মার্চ জামায়াত প্রার্থী এ সংক্রান্ত নিয়মিত আপিল দায়ের করলে, ১৬ জুন আপিল বিভাগ দুই সপ্তাহের মধ্যে হাইকোর্টে রুলটি নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেন।

সর্বশেষ গত ২১ জুন বিষয়টি আবার হাইকোর্টের কার্যতালিকায় ওঠে এবং দীর্ঘ শুনানি শেষে গত ৯ জুলাই আদালত সরোয়ার আলমগীরের পক্ষে রায় প্রদান করে তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেন। এরপরই আজ তিনি প্রথমবারের মতো সংসদের কার্যক্রমে অংশ নিয়ে এই বক্তব্য দেন।