সোমবার, 19 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা, স্বামীর যাবজ্জীবন

ফরিদপুরে যৌতুকের দাবি পূরণ করতে না পারায় স্ত্রী স্মৃতি আক্তারকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার অপরাধে স্বামী শাহীন মীর মালতকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছে আদালত।

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা, স্বামীর যাবজ্জীবন
ছবি : সংগৃহীত

ফরিদপুরে যৌতুকের দাবি পূরণ করতে না পারায় স্ত্রী স্মৃতি আক্তারকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার অপরাধে স্বামী শাহীন মীর মালতকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছে আদালত।

কারাদণ্ডের পাশাপাশি দণ্ডিত অপরাধীকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে এবং তা পরিশোধে ব্যর্থ হলে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা দায়রা জজ শামীমা পারভীন এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায় প্রদানের সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি এজলাসে উপস্থিত ছিলেন এবং পরবর্তীতে তাকে কড়া পুলিশি পাহারায় জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে ফরিদপুর সদর উপজেলার ডিক্রিরচর ইউনিয়নের সাঘা বিশ্বাসের ডাঙ্গী এলাকার বাসিন্দা মো. ফারুক মাতুব্বরের মেয়ে স্মৃতি আক্তারের সঙ্গে একই উপজেলার অম্বিকাপুর ইউনিয়নের আজাহার মণ্ডলের পাড়া গ্রামের শাহীন মীর মালতের বিয়ে সম্পন্ন হয়। তাদের সংসারে একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। তবে বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই শাহীন মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন এবং যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীর ওপর নানামুখী নির্যাতন শুরু করেন। মেয়ের সুখের কথা বিবেচনা করে ২০২১ সালে নিহতের পরিবার শাহীনকে প্রায় এক লাখ টাকা প্রদান করলেও পরবর্তীতে তিনি আরও তিন লাখ টাকার দাবিতে অত্যাচারের মাত্রা বাড়িয়ে দেন।

মামলার বিবরণী অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৮ জানুয়ারি সন্ধ্যার পর কোনো এক সময়ে যৌতুক সংক্রান্ত বিরোধের জেরে স্মৃতি আক্তারকে ঘরের ভেতর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে নিহতের মরদেহ ঘরের খাটের ওপর ফেলে রেখে শাহীন ও তার পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে যান। পরদিন খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের পিতা ফারুক মাতুব্বর বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুজন বিশ্বাস তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ৩০ এপ্রিল শাহীন মীর মালতকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র বা চার্জশিট দাখিল করেন।

আইনি প্রক্রিয়া শেষে রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম রব্বানী রতন সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ বিজ্ঞ আদালতে সম্পূর্ণভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে এবং এই রায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারটি কাঙ্ক্ষিত বিচার পেয়েছে।