মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংঘর্ষ ভয়াবহ রূপ নেওয়ায় জীবন রক্ষার তাগিদে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) ৩৭ জন সদস্য।
রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে টেকনাফ সীমান্তের হোয়াইক্যং এলাকায় এসব সদস্যকে আটক করে পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পরে তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়।
আটক হওয়া আরাকান আর্মির সদস্যরা জানিয়েছেন, সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় সংঘর্ষ আরও তীব্র হয়ে ওঠায় তারা বাধ্য হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন।
টেকনাফের হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খোকন কান্তি রুদ্র ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে আরাকান আর্মির সঙ্গে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী এআরএসএ/এআরএ/আরআইএম/আরএসও-এর চলমান সংঘর্ষ ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সেই পরিস্থিতিতে নিজেদের নিরাপত্তার কথা ভেবেই আরাকান আর্মির এসব সদস্য বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছেন।
তিনি আরও জানান, একই দিন সকালে মিয়ানমারের ভেতরে সংঘর্ষ চলাকালে ছোড়া একটি গুলি সীমান্ত অতিক্রম করে টেকনাফে এসে পড়ে। এতে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ এলাকার বাসিন্দা জসীম উদ্দীনের ১২ বছর বয়সী মেয়ে আফনান গুলিবিদ্ধ হয়। আহত অবস্থায় তাকে উখিয়ার কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সীমান্তের ওপারে সংঘর্ষের প্রভাব বাংলাদেশ অংশে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সীমান্ত এলাকায় বিজিবি ও পুলিশের টহল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।