সোমবার, 19 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল দ্বারা অধিকৃত হয়েছে: ক্যারি বোলার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগী এবং প্রভাবশালী কনজারভেটিভ ব্যক্তিত্ব ক্যারি প্রেজিন বোলার দীর্ঘ দুই দশকের সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল দ্বারা অধিকৃত হয়েছে: ক্যারি বোলার
ছবিঃ সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগী এবং প্রভাবশালী কনজারভেটিভ ব্যক্তিত্ব ক্যারি প্রেজিন বোলার দীর্ঘ দুই দশকের সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছেন।

সোমবার ‘পিয়ার্স মরগান আনসেন্সরড’ অনুষ্ঠানে এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ট্রাম্পের জনপ্রিয় ‘মাগা’ (MAGA) আন্দোলন এখন পুরোপুরি স্তিমিত ও মৃতপ্রায়। বোলার অভিযোগ করেন, বর্তমান মার্কিন প্রশাসন একটি বিদেশি রাষ্ট্রের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিদেশি শক্তির প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে ইরানের বিরুদ্ধে এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে জড়িয়েছেন।

সাক্ষাৎকারে বোলার গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ যত তীব্র হচ্ছে, ট্রাম্পের কট্টর সমর্থকদের মধ্যে বিভাজন ততই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তার মতে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনঘন ওয়াশিংটন সফর এবং ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর তার অত্যধিক প্রভাবই এই যুদ্ধের মূল কারণ। বোলার প্রশ্ন তোলেন, কেন মার্কিন সরকারের ওপর একটি বিদেশি রাষ্ট্রকে কর্তৃত্ব করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তিনি মনে করেন, সাধারণ আমেরিকানরা এই যুদ্ধের কারণে অত্যন্ত রাগান্বিত এবং তারা মনে করছে ট্রাম্প তাদের বিশ্বাসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।

উল্লেখ্য, ক্যারি প্রেজিন বোলার গত মাস পর্যন্ত হোয়াইট হাউসের রিলিজিয়াস লিবার্টি কমিশনের সদস্য ছিলেন। সেখান থেকে অব্যাহতির পর তিনি এখন ট্রাম্পের কট্টর বিরোধী শিবিরে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি জানান, প্রায় ২০ বছর ধরে ট্রাম্পের অনুগত থাকলেও এখন আর তিনি তার ‘প্রিয় বন্ধু’ প্রেসিডেন্টকে চিনতে পারছেন না। বোলারের দাবি, অসংখ্য ‘মাগা’ সমর্থক এখন মনে করছেন যে কেবল একটি নির্দিষ্ট দেশের স্বার্থ রক্ষার্থেই যুক্তরাষ্ট্র আজ ইরানের মাটিতে নিজেদের সেনাদের রক্ত বিসর্জন দিচ্ছে।

ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভিত্তির এই ফাটল কেবল বোলারের বক্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যেও এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। মঙ্গলবার ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টারের পরিচালক জো কেন্ট পদত্যাগ করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এই অন্যায্য যুদ্ধকে তিনি আর সমর্থন করতে পারছেন না। কেন্টের মতে, ইরান আমেরিকার জন্য কোনো আসন্ন হুমকি ছিল না, বরং শক্তিশালী লবির চাপেই এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়েছে।

বোলার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যেসব রাজনীতিবিদ ‘ওয়াশিংটন দুর্নীতিমুক্ত’ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিদেশি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন, আমেরিকানরা আর তাদের ভোট দেবে না। তার মতে, ট্রাম্প কেবল তার রাজনৈতিক আদর্শকেই নয়, বরং পুরো দেশকে প্রতারিত করেছেন। ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির প্রকৃত অর্থ নিয়ে নতুন করে শুরু হওয়া এই বিতর্ক ট্রাম্পের আগামী রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।