শনিবার, 17 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধ রপ্তানিতে দিতে হবে ১০০ শতাংশ শুল্ক

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আমদানিকৃত পেটেন্ট ওষুধের ওপর শতভাগ শুল্ক আরোপের চূড়ান্ত নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গত বৃহস্পতিবার এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে তিনি এই কঠোর সিদ্ধান্ত কার্যকর করেন। তবে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলো যদি সরকারের সঙ্গে বিশেষ চুক্তিতে আবদ্ধ হয়, তবে তারা এই উচ্চ হারের কর থেকে রেহাই পাওয়ার সুযোগ পাবে।

যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধ রপ্তানিতে দিতে হবে ১০০ শতাংশ শুল্ক
ছবিঃ সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আমদানিকৃত পেটেন্ট ওষুধের ওপর শতভাগ শুল্ক আরোপের চূড়ান্ত নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গত বৃহস্পতিবার এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে তিনি এই কঠোর সিদ্ধান্ত কার্যকর করেন। তবে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলো যদি সরকারের সঙ্গে বিশেষ চুক্তিতে আবদ্ধ হয়, তবে তারা এই উচ্চ হারের কর থেকে রেহাই পাওয়ার সুযোগ পাবে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জীবনরক্ষাকারী ওষুধের উৎপাদন বিদেশের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে আনাই এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য। অবশ্য বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের প্রভাব বর্তমানে অনেকটা প্রতীকী হতে পারে। কারণ সাধারণ বা জেনেরিক ওষুধের ওপর এই শুল্ক কার্যকর হবে না, যা মার্কিন বাজারে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়।

ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয় ও লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের অধ্যাপক শন সুলিভান বিষয়টিকে একটি শক্তিশালী বাণিজ্যিক কৌশল হিসেবে দেখছেন। তার মতে, বড় কোম্পানিগুলোকে আলোচনার টেবিলে আনাই এই শুল্কের মূল উদ্দেশ্য। এরই মধ্যে অনেক শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে শুল্কমুক্ত সুবিধা নিশ্চিত করেছে এবং আগামী দিনগুলোতে আরও অনেক প্রতিষ্ঠান একই পথে হাঁটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নতুন এই নীতি অনুযায়ী, যেসব কোম্পানি ২০২৯ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন কারখানা স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেবে, তাদের ওষুধের ওপর ১০০ শতাংশের পরিবর্তে মাত্র ২০ শতাংশ শুল্ক ধার্য হবে। এছাড়া সরকারের সাথে সরাসরি মূল্য নির্ধারণী চুক্তিতে এলে এই শুল্কের হার শূন্যে নামিয়ে আনার সুযোগ রাখা হয়েছে। পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, কোম্পানিগুলো সরকারি স্বাস্থ্য বিমা কর্মসূচি ‘মেডিকেইড’-এ কম মূল্যে ওষুধ সরবরাহের শর্তে এই সুবিধা গ্রহণ করে থাকে।

এদিকে ইউরোপ, সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানের মতো মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে গত বছর হওয়া চুক্তি অনুযায়ী নিম্ন শুল্ক হার বজায় রাখবে ওয়াশিংটন। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে হওয়া চুক্তির ফলে ব্রিটিশ ওষুধের ওপর কোনো আমদানি শুল্ক থাকছে না। এর বিনিময়ে ব্রিটিশ স্বাস্থ্যসেবা এনএইচএস উন্নত চিকিৎসার জন্য ওষুধের উচ্চমূল্য পরিশোধে রাজি হয়েছে, যা রোগীদের নতুন ক্যানসার থেরাপির মতো আধুনিক চিকিৎসা দ্রুত পাওয়ার পথ সুগম করবে।

তবে এই পদক্ষেপ নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের সিনিয়র ফেলো রিচার্ড ফ্রাঙ্ক সতর্ক করেছেন যে, বড় কোম্পানিগুলো চুক্তির মাধ্যমে বেঁচে গেলেও ছোট ও মাঝারি আমদানিকারকরা সংকটে পড়তে পারেন। এতে ওষুধের খুচরা মূল্য বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বাড়ানো মানেই উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, যা শেষ পর্যন্ত সাধারণ ক্রেতাদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

হোয়াইট হাউসের দাবি, শুল্কের এই কড়া হুঁশিয়ারির ফলে ওষুধ কোম্পানিগুলো এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ৪০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে এই বিশেষ ছাড়ের মেয়াদ ট্রাম্পের বর্তমান কার্যকাল শেষ হওয়ার সাথে সাথেই সমাপ্ত হবে। একই সঙ্গে স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম এবং তামার ওপর আরোপিত শুল্কের শর্তাবলিতেও কিছু পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।