শনিবার, 17 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক চুক্তি হলে দেশের স্বার্থ রক্ষা করেই হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যেকোনো ধরনের প্রতিরক্ষা বা সামরিক চুক্তি স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক চুক্তি হলে দেশের স্বার্থ রক্ষা করেই হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যেকোনো ধরনের প্রতিরক্ষা বা সামরিক চুক্তি স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

সম্প্রতি নিজের বিদেশ সফর শেষে শনিবার বিকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কথা বলেন। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও মরক্কো সফর থেকে অর্জিত নানা অভিজ্ঞতা ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনার বিষয়বস্তু গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরতেই এই ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।

ওয়াশিংটনের প্রস্তাবিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তি—জেনারেল সিকিউরিটি অব মিলিটারি ইনফরমেশন এগ্রিমেন্ট (জিসোমিয়া) এবং অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড ক্রস সার্ভিসিং এগ্রিমেন্ট (আকসা) চূড়ান্ত হওয়ার সময়সীমা নিয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী জানান, এই প্রক্রিয়ার সাথে কেবল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একাকী জড়িত নয়। এর সাথে দেশের সশস্ত্র বাহিনীসহ সরকারের একাধিক অংশীজন ও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় যুক্ত রয়েছে। তাই সকলের সম্মিলিত চিন্তাভাবনা, মতামত ও চুলচেরা বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই সাথে তিনি পরিষ্কার করেন যে, তার সাম্প্রতিক ওয়াশিংটন সফরে এই সামরিক চুক্তিগুলো নিয়ে নতুন করে কোনো আলোচনা হয়নি।

শামা ওবায়েদ ইসলাম তার এই সফরের প্রাপ্তি উল্লেখ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, নতুন বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি, অভিবাসন প্রক্রিয়া এবং রোহিঙ্গা সংকটের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক বিষয়গুলো স্থান পেয়েছে। জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে ওয়াশিংটন এই সংকট মোকাবিলায় ঢাকার পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং তাদের জন্য বড় অঙ্কের আর্থিক অনুদান বরাদ্দ দিয়েছে। এছাড়া মার্কিন কর্মকর্তা পল কাপুরের সাথে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষা, নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং বাংলাদেশিদের জন্য মার্কিন ভিসা প্রাপ্তির প্রক্রিয়া আরও সহজ ও গতিশীল করার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আলোচিত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি মরক্কো সফরের সুফল সম্পর্কেও সাংবাদিকদের অবহিত করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, এই সফরের মাধ্যমে উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কোর সাথে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী পর্যায়ে সরাসরি যোগাযোগ তথা বি-টু-বি নেটওয়ার্ক স্থাপিত হয়েছে। দুই দেশের বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি বিশেষ করে সার আমদানি এবং বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পাট খাতের উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে।

উল্লেখ্য, বৈশ্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে বিভিন্ন বন্ধুভাবাপন্ন দেশের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত চার ধরনের সামরিক চুক্তি সম্পাদন করে থাকে। এই প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ হলো জিসোমিয়া, যা মূলত দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে স্পর্শকাতর ও গোপন তথ্য আদান-প্রদান এবং সেই তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সাথে সম্পর্কিত। দ্বিতীয় ধাপের চুক্তিটি হলো আকসা, যার আওতায় মূলত অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র ক্রয়-বিক্রয়ের বিষয়গুলো নির্ধারিত হয়। এছাড়া যৌথ সামরিক অভিযানের সময় লজিস্টিক ও অস্ত্র সহায়তা বিনিময়ের জন্য ‘সিজমোয়া’ এবং শত্রুভাবাপন্ন দেশের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন শনাক্তকরণের মতো অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও রাডারভিত্তিক তথ্য আদান-প্রদানের জন্য ‘বেকা’ চুক্তি করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের এই জিসোমিয়া ও আকসা চুক্তি সইয়ের প্রাথমিক ও আনুষ্ঠানিক আলোচনা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই শুরু হয়েছিল।