সম্প্রতি দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় হাসপাতালগুলোতে আক্রান্ত শিশুদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অত্যন্ত সংক্রামক এই রোগটি মূলত শ্বাসতন্ত্রকে আক্রান্ত করে এবং দ্রুত একজনের দেহ থেকে অন্যজনে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূলত নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে (ইপিআই) ঘাটতি থাকার কারণে শিশুদের শরীরে পর্যাপ্ত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হচ্ছে না, ফলে ভাইরাসের বিস্তার সহজ হচ্ছে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বসবাস এবং অপুষ্টির শিকার শিশুদের মধ্যে এই সংক্রমণের হার বেশি। টিকা না নেওয়া বা অসম্পূর্ণ ডোজের কারণে একটি বড় জনগোষ্ঠী এখন স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে রয়েছে।
হাম কেবল সাধারণ জ্বর কিংবা শরীরে ফুসকুড়ি ওঠার বিষয় নয়; সঠিক সময়ে ব্যবস্থা না নিলে এটি প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। নিউমোনিয়া, গুরুতর ডায়রিয়া, কানের সংক্রমণ থেকে স্থায়ী বধিরতা, এমনকি মস্তিষ্কের প্রদাহ বা এনসেফালাইটিসের মতো জটিল সমস্যা তৈরি করতে পারে এই রোগ। চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো টিকা গ্রহণের মাধ্যমে এসব ঝুঁকি থেকে প্রায় শতভাগ সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব। সরকারি ইপিআই কর্মসূচির পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকেও এই টিকা সহজলভ্য। বেসরকারি পর্যায়ে সাধারণত এমএমআর (হাম, মাম্পস ও রুবেলা) টিকা দেওয়া হয়, যা তিনটি রোগ থেকেই সুরক্ষা প্রদান করে।
শিশুদের ক্ষেত্রে সাধারণত দুই ধাপে এই টিকা প্রদান করা হয়। প্রথম ডোজটি দিতে হয় শিশুর বয়স ৯ মাস পূর্ণ হলে এবং দ্বিতীয় ডোজটি ১৫ মাস বয়সে। তবে যারা শৈশবে কোনো কারণে টিকা নিতে পারেনি, তারা অন্তত ২৮ দিনের ব্যবধানে দুটি ডোজ গ্রহণ করতে পারেন। শুধু শিশু নয়, বড়দের জন্যও হামের টিকা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে প্রজননক্ষম নারী যারা আগে টিকা নেননি, তাদের জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি। তবে সতর্ক থাকতে হবে যে, গর্ভাবস্থায় হামের টিকা নেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং টিকা নেওয়ার অন্তত এক মাস পর গর্ভধারণের পরিকল্পনা করা নিরাপদ।
হামের টিকা অত্যন্ত নিরাপদ হিসেবে স্বীকৃত। টিকা নেওয়ার পর ইনজেকশনের স্থানে সামান্য ব্যথা, মৃদু জ্বর কিংবা শরীরে হালকা লালচে ভাব দেখা দিতে পারে, যা দুই-তিন দিনের মধ্যেই সেরে যায়। গুরুতর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার নজির খুবই বিরল। বর্তমান পরিস্থিতিতে হাম প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। তাই নিজ সন্তানকে সময়মতো টিকার আওতায় এনে পরিবার ও সমাজকে সুরক্ষিত রাখার আহ্বান জানাচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।







