মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও তীব্র কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের পথে বড় বাধা কাটিয়ে উঠেছে ইরান। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের মাত্র ১০ দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেয়েছেন দেশটির জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়রা।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে মেক্সিকোয় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আবুলফজল পাসান্দিদেহ জানিয়েছিলেন, জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা তখনও মার্কিন ভিসা পাননি। তবে হোয়াইট হাউসের ওই কর্মকর্তা জানান, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতেই খেলোয়াড়দের ভিসা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
তুরস্কে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত টম বারাকও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি পোস্টের মাধ্যমে খবরটি নিশ্চিত করেন। একই সঙ্গে তিনি আঙ্কারায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসকে ধন্যবাদ জানান।
তবে ইরানের আধাসরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খেলোয়াড়রা ভিসা পেলেও দলের কারিগরি ও প্রশাসনিক বিভাগের কয়েকজন সদস্য এখনও ভিসা পাননি। এ বিষয়ে ইরান ফুটবল ফেডারেশন আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবারের বিশ্বকাপকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। ১৯৩০ সালে বিশ্বকাপ শুরুর পর এই প্রথম কোনো আয়োজক দেশ এমন একটি রাষ্ট্রকে স্বাগত জানাতে যাচ্ছে, যার সঙ্গে তাদের সরাসরি যুদ্ধ চলছে।
ভিসা জটিলতা এবং যুক্তরাষ্ট্রে দলের অবস্থান সীমিত রাখার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইরান শেষ মুহূর্তে তাদের প্রস্তুতি ক্যাম্প অ্যারিজোনা থেকে সরিয়ে মেক্সিকোর টিজুয়ানায় স্থানান্তর করেছে। দলটির রোববার (৭ জুন) ভোরে সেখানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ইরান। একই গ্রুপে তাদের অপর দুই প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম ও মিশর।
রাষ্ট্রদূত আবুলফজল পাসান্দিদেহ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি যে তারা ইরান দলকে নিজেদের দেশে দেখতে চায় না। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাউকে বিশ্বকাপ প্রতিনিধিদলের অংশ হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হবে না।
এই নীতির কারণে সাবেক আইআরজিসি কমান্ডার এবং ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ গত ডিসেম্বরে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ড্র অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের অনুমতি পাননি।
যুদ্ধাবস্থার মধ্যেও বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকে শান্তির বার্তা হিসেবে তুলে ধরছে তেহরান। রাষ্ট্রদূত পাসান্দিদেহের মতে, প্রতিপক্ষের ভূখণ্ডে গিয়ে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তই প্রমাণ করে যে ইরান শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনা এখনো ধীরগতিতে এগোলেও সামরিক হামলা ও পাল্টা হামলার পাশাপাশি একটি অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা







