দেশে শিশুদের মধ্যে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ার পেছনে টিকাদান ও ব্যবস্থাপনায় ঘাটতির অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম।
সোমবার সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গত ৪ জানুয়ারি প্রথম হাম শনাক্ত হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তখনকার সরকার (অন্তর্বর্তীকালীন সরকার) বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন ছিল, তবে ভ্যাকসিন কেনার সময় জটিলতার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সমস্যা তৈরি হয়, যার ফলেই বর্তমানে প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশে যে ব্যবস্থায় টিকা সংগ্রহ করা হতো, পরে সেটি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং অন্য একটি প্রতিষ্ঠান থেকে টিকা কেনার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নকারীদের এক বছরের আন্দোলনের কথাও উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, এ ধরনের অস্থিরতা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে।
ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, হাম নিয়ে নতুন করে গবেষণা প্রয়োজন। তার মতে, বর্তমানে ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে টিকা দেওয়া হলেও ৪ মাস বয়সী শিশুরাও আক্রান্ত হচ্ছে, যা উদ্বেগজনক। কেন আগেভাগেই সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে—তা গবেষণার মাধ্যমে নির্ধারণ করা জরুরি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এটা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এটি নিয়ে অবশ্যই সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। কারণ একজন থেকে ১০ থেকে ১৫ জনের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। তাই এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।”
রামেক হাসপাতালের সক্ষমতা নিয়েও তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, হাসপাতালে প্রায় ১ হাজার ২০০ বেড থাকলেও বর্তমানে প্রায় ২ হাজার ৯০০ রোগী ভর্তি রয়েছে। সীমিত সক্ষমতার মধ্যেই চিকিৎসা দিতে হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান, শিশুদের জন্য আইসিইউ ব্যবস্থা রয়েছে এবং সেখানে ১২ জন শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রাথমিক পর্যায়েই রোগ নিয়ন্ত্রণ করা গেলে আইসিইউ ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা কমে আসবে।
সম্প্রতি হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে সরকারের তদন্ত চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং কমিটির সদস্যরা সোমবার হাসপাতাল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর হাম পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানান তিনি।
এর আগে ডা. রফিকুল ইসলাম হাসপাতালের হাম রোগীদের আইসোলেশন ওয়ার্ড ও আইসিইউ পরিদর্শন করেন। এ সময় হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ উল ইসলামসহ হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।







