পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানের বিশেষ দূত রেজা আমিরি মোগাদ্দাম জানিয়েছেন যে ওয়াশিংটনের সাথে তেহরানের সম্ভাব্য যেকোনো সংলাপ বা আলোচনার কেন্দ্রস্থল হবে ইসলামাবাদ। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরান পাকিস্তানের ওপর গভীর আস্থা রাখলেও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপারে তাদের অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত। তেহরানের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই ইসলামাবাদকে অবহিত করা হয়েছে যে ওয়াশিংটনের ওপর তাদের কোনো প্রকার বিশ্বাস নেই। আলোচনার এই প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও ফিল্ড মার্শালের মধ্যস্থতা করার সদিচ্ছাকে তিনি অত্যন্ত ইতিবাচক এবং প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেন।
ইসলামাবাদ পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট আয়োজিত এক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে রাষ্ট্রদূত মোগাদ্দাম ইরানের অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসবাদ এবং এর ভয়াবহতা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের বাইরে থেকে পরিচালিত বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে ইরানে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৭ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের তালিকায় দেশটির সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্ব থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী পদমর্যাদার ব্যক্তিরাও রয়েছেন। এই বিশাল পরিমাণ মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েও ইরান নিজের অবস্থানে অটল রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
আঞ্চলিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রদূত পরিষ্কার করেন যে মধ্যপ্রাচ্যে কোনো প্রকার আধিপত্য বিস্তার ইরানের লক্ষ্য নয়। তাদের প্রধান উদ্দেশ্য হলো নিজেদের রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষা করা। ইরানের বহুল আলোচিত পারমাণবিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, তেহরান সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উপায়ে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। এখন পর্যন্ত বিশ্বের কোনো শক্তিই ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে এমন কোনো অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি বলে তিনি মন্তব্য করেন। একই সাথে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে ১৯৭৯ সালের ঐতিহাসিক বিপ্লবের পর থেকেই ইরান অব্যাহতভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নিস্ট শক্তির নানামুখী চাপের মোকাবিলা করে আসছে।







