টানা বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চলনবিলের বিস্তীর্ণ বোরো ধানখেত এখন গভীর সংকটে। আত্রাই নদী ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন সংযোগ খাল দিয়ে হু হু করে বিলে পানি প্রবেশ করায় কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। পাকা ধান ঘরে তোলার আগমুহূর্তে ফসলের এমন বিপর্যয় ঠেকাতে খালের মুখে মাটির বাঁধ দিয়ে পানি আটকানোর প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন স্থানীয় চাষিরা।
নাটোর কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নদ-নদীর পানির উচ্চতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় নাটোরের সিংড়া উপজেলার প্রায় ২৬ হাজার হেক্টর এবং গুরুদাসপুরের নিচু এলাকার বিশাল ধানখেত তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। যদিও গতকাল রোববার নতুন করে বৃষ্টি হয়নি, তবে উজান থেকে আসা পানির চাপে আত্রাই নদীর অববাহিকা এখন ঝুঁকিপূর্ণ। চলনবিলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত এই নদীর পানি সিংড়ার জোড়মল্লিকা, সারদানগর, হুলহুলিয়া ও কতুয়াবাড়িসহ বিভিন্ন খাল দিয়ে দ্রুত ভেতরের বিলগুলোতে ছড়িয়ে পড়ছে। এই সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন, কৃষি বিভাগ এবং জনপ্রতিনিধিরা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছেন।
মাঠের চিত্র বলছে, সিংড়া উপজেলায় আবাদকৃত জমির মাত্র ৩০ শতাংশ ধান এ পর্যন্ত কাটা সম্ভব হয়েছে, বাকি প্রায় ৭০ শতাংশ ধান এখনো মাঠেই রয়েছে। অন্যদিকে গুরুদাসপুর উপজেলার ৪ হাজার ৪৩৫ হেক্টর জমির ধান কাটতে আরও অন্তত দুই সপ্তাহ সময় প্রয়োজন। নদীর পানি এভাবে বাড়তে থাকলে মাটির তৈরি অস্থায়ী বাঁধগুলো যেকোনো সময় ধসে গিয়ে কয়েকশ হেক্টর জমির ফসল নিমিষেই তলিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে জোলারবাতা স্লুইসগেট এলাকার একটি অংশ আগে থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত থাকায় সেখান দিয়ে পানি নিয়ন্ত্রণে বালুর বস্তা ফেলছেন কৃষকেরা।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্যমতে, আত্রাই নদীর পানির চাপ এতই বেশি যে অনেক জায়গায় মাটির বাঁধ টিকিয়ে রাখা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ছে। যদি পানি প্রবেশ ঠেকানো না যায়, তবে শত শত কৃষকের সারা বছরের পরিশ্রম বৃথা যাবে। জেলা কৃষি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উজানের পানির কারণে বিলের ধান কাটা নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দ্রুত ধান ঘরে তুলতে কৃষকদের বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্রপাতির সহায়তা নিতে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় কৃষি কার্যালয়। এখন সবার নজর আত্রাই নদীর পানির স্তরের দিকে, কারণ প্রকৃতির এই বৈরী রূপই ঠিক করে দেবে চলনবিলের হাজারো কৃষকের ভাগ্য।







