দেশের বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) মাঠ পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
সোমবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এই নির্দেশনার কথা জানান। বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জেলা প্রশাসকদের এই যৌথ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, উৎপাদক পর্যায় থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত পণ্যের দামের যে বিশাল ব্যবধান থাকে, তা কমিয়ে আনা জরুরি। বিশেষ করে কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে এই পার্থক্য সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলে। তিনি জানান, গত কয়েক দশকে বাজার ব্যবস্থাপনায় কোনো সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তবে বর্তমান সরকার প্রথমবারের মতো আমদানি থেকে শুরু করে খুচরা বিক্রয় পর্যন্ত পুরো সরবরাহ ব্যবস্থাকে (সাপ্লাই চেইন) একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই জেনারেটেড মডেলের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে। এর মাধ্যমে সার্বক্ষণিক বাজার পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।
ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে একটি ‘কৌশলগত মজুত’ বা স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ গড়ে তোলার প্রকল্পের কথাও জানান মন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে আমদানি নির্ভর পণ্য সংরক্ষণের পর্যাপ্ত সুবিধা নেই। সরকার এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করতে যাচ্ছে যেখানে তেল ও চিনির মতো প্রয়োজনীয় পণ্যগুলো অন্তত দুই মাসের জন্য মজুত রাখা যায়। এতে করে দুর্যোগকালীন সময়ে বা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির মাধ্যমে গুটিকয়েক ব্যবসায়ীর সিন্ডিকেট করার সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে। বাণিজ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, কেবল সিন্ডিকেট নয়, বাজার ব্যবস্থার অসামঞ্জস্য দূর করতেও স্টোরেজ ফ্যাসিলিটি নির্মাণ অপরিহার্য।
এদিকে শিল্প ও বস্ত্র খাতের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, সরকারের মালিকানাধীন সব পাট ও বস্ত্র কল বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ২৫টি বস্ত্র ও ২৫টি পাটকলের মধ্যে বেশ কিছু ইজারা দেওয়া হয়েছে এবং বাকিগুলোও দ্রুত হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে আজ সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মূলত সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে দেশের শিল্পায়ন ও বাজার ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করতেই সরকার এই বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।







