সারাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৬৫৪ জন রোগী। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম বুধবার বিকেলে এক বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগজনক তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত তিন দিনে দেশে হাম ও এর উপসর্গে মোট ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৪ মে এক দিনেই সর্বোচ্চ ১৭ জনের প্রাণহানি ঘটে। পরদিন ৫ মে মারা যায় আরও ছয়জন এবং আজ নতুন করে সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেল। এই তিন দিনে নতুন করে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ৪ হাজার রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে ৬ মে পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ৫৬ জন এবং এই রোগের উপসর্গ নিয়ে ২৬৮ জনসহ মোট ৩২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৯৯ জনে এবং উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৪ হাজার ২৬০ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৩০ হাজার ৮৮৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন, আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৭ হাজার ২২৩ জন।
পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। মার্চের মাঝামাঝি সময়ে দৈনিক ভর্তির হার ৪শ থেকে ৫শ থাকলেও এখন তা বেড়ে দেড় হাজার ছাড়িয়ে গেছে। আক্রান্তদের চিকিৎসায় হাসপাতালগুলোতে ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে।
সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর টিকাদান কর্মসূচিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিশেষ করে মাঠ পর্যায়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশুদের টিকার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই মহামারি নিয়ন্ত্রণে কেবল টিকাদানই যথেষ্ট নয়, বরং দ্রুততম সময়ে আক্রান্তদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তোলা জরুরি।







