বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কন্যা ড. শামারুহ মির্জা। বিশেষ এই দিনটিতে কবিগুরুকে নিয়ে নিজের অনুভূতি ও পারিবারিক স্মৃতি ভাগ করে নিয়েছেন তিনি।
নিজের ফেসবুক পোস্টে শামারুহ মির্জা উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা ও গঠনমূলক সমালোচনা চললেও তার কাছে কবিগুরুর স্থান অনন্য। তিনি মনে করেন, নানা কুতর্ক থাকলেও রবীন্দ্রনাথের প্রাসঙ্গিকতা ও শ্রেষ্ঠত্ব অপরিবর্তিত। নিজের গভীর আবেগের কথা প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি লেখেন, কবিগুরু তার ব্যক্তিগত অস্তিত্ব ও সত্তার সঙ্গে গভীরভাবে মিশে আছেন।
শামারুহ মির্জা তার শৈশবের সোনালি দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে জানান, তাদের পারিবারিক আবহে ধর্মের পাশাপাশি সাহিত্যের এক চমৎকার মেলবন্ধন ছিল। ভোরে দাদির কোরআন তেলাওয়াত আর বারান্দায় বসে ট্রানজিস্টরে মোহাম্মদ রাফির গান শুনে তার দিন শুরু হতো। বাবা-মায়ের কাছেই তার রবীন্দ্রসংগীতের হাতেখড়ি। বাবার চমৎকার আবৃত্তি করার দক্ষতার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, মির্জা ফখরুলের কণ্ঠে নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা শুনলে তার শরীরের লোম খাড়া হয়ে যেত। এছাড়াও শৈশবে তিন গোয়েন্দা, গল্পগুচ্ছ, লোটাকম্বল, কালবেলা থেকে শুরু করে মিসির আলী পর্যন্ত বিচিত্র সব সাহিত্য এবং বিভিন্ন দেশি-বিদেশি সাময়িকী পড়ার সমৃদ্ধ পারিবারিক পরিবেশের কথা তিনি তুলে ধরেন।
মায়ের স্মৃতি টেনে তিনি জানান, তার মা একবার ‘সেদিন দুজনে’ গানটি রেকর্ড করেছিলেন। এছাড়া জনপ্রিয় নাটক ‘এইসব দিনরাত্রিতে’ শোনা ‘আজ জ্যোৎস্না রাতে সবাই গেছে বনে’ গানটি আজও তার স্মৃতিতে সতেজ। এখনো জ্যোৎস্না দেখা দিলেই অবচেতন মনে সেই গানের সুর বেজে ওঠে বলে জানান তিনি।
পোস্টের শেষ অংশে তিনি একজন নেটিজেনের মন্তব্যের কড়া জবাব দেন। জনৈক মন্তব্যকারী কবিগুরুর সঙ্গে মহানবীর (সা.) তুলনা টানলে শামারুহ মির্জা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মহাপুরুষদের সাথে অসম তুলনা এনে ইসলাম ধর্মের অবমাননা ও ক্ষতি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি জনৈক এক ব্যক্তিকে ইঙ্গিত করে কটাক্ষপূর্ণ মন্তব্যও করেন।







