আর্কাইভ
ads
logo

সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষা ভারতের প্রধান অগ্রাধিকার: রণধীর জয়সোয়াল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশকাল: ১২ মে ২০২৬, ০৯:৪৬ পি.এম
সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষা ভারতের প্রধান অগ্রাধিকার: রণধীর জয়সোয়াল

ছবি : সংগৃহীত

ads

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেষ্টনী নির্মাণ এবং অনুপ্রবেশ ঠেকানোর বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পুনরায় স্পষ্ট করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা ভারত সরকারের প্রধান লক্ষ্য। পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপসমূহকে ভারত এই নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হিসেবেই বিবেচনা করছে।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন যে, সীমান্তে বেড়া দেওয়ার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফকে প্রয়োজনীয় জমি বুঝিয়ে দেওয়া হবে। রাজ্য মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে জয়সোয়াল সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ঢাকার সঙ্গে দিল্লির দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ভারত সবসময়ই ইতিবাচক ও গঠনমূলক দৃষ্টিতে দেখে এবং এই নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

এদিকে ভারতের এই কঠোর অবস্থান নিয়ে গতকাল প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তিনি উল্লেখ করেন যে, কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে বর্তমান বাংলাদেশকে ভয় দেখানোর কোনো সুযোগ নেই এবং দেশের জনগণ বা সরকার এ ধরনের পদক্ষেপে মোটেও আতঙ্কিত নয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই ব্রিফিংয়ে অনুপ্রবেশের বিষয়টিও বিশেষভাবে উঠে আসে। রণধীর জয়সোয়াল জানান, বাংলাদেশে অবস্থানরত ২ হাজার ৮৬০ জনের বেশি ব্যক্তির নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য অনেক আগেই ঢাকা কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে। ভারতের দাবি অনুযায়ী তারা বাংলাদেশি নাগরিক হলেও এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট জবাব মেলেনি। এছাড়া বাংলাদেশিদের অবৈধভাবে ইউরোপ পাড়ি দেওয়া কিংবা অন্যান্য অনুপ্রবেশের বিষয়ে বাংলাদেশের শূন্য সহনশীলতা নীতি ভারতের ক্ষেত্রেও কার্যকর কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে মুখপাত্র জানান যে, দ্বিপক্ষীয় সংলাপে অনুপ্রবেশের বিষয়টি ভারত সবসময় গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করে থাকে।

অন্যদিকে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়েও ভারতের বিশেষ নজরদারির কথা উঠে এসেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান চীন সফরকালে তিস্তা প্রকল্পের জন্য বেইজিংয়ের সহযোগিতা চেয়েছেন বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এই পরিবর্তনের ফলে পারস্পরিক আস্থার সংকট তৈরি হবে কি না, তা জানতে চাওয়া হলে জয়সোয়াল বলেন যে বিশ্বের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক ঘটনার মতো এ ক্ষেত্রেও ভারতের গভীর পর্যবেক্ষণ রয়েছে। তিনি পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেন যে, প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারত সবসময় উভয় দেশের পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা ও শ্রদ্ধাবোধকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকে।

সামগ্রিকভাবে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলানো এবং সীমান্ত নিয়ে কড়াকড়ির মধ্যেও ভারত সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে অনুপ্রবেশ সমস্যা এবং তিস্তা প্রকল্পের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো যে আগামীতে দুই দেশের আলোচনায় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে, মুখপাত্রের বক্তব্যে তা স্পষ্ট ফুটে উঠেছে।

ads

এই বিভাগের আরও খবর

ads
ads
manusherkotha

manusherkotha

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ