ঢাকা মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের মতো অপরাধের পাশাপাশি অনলাইন জুয়া ও সাইবার জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ডিএমপির নবনিযুক্ত কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।
তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, আইন অমান্যকারী ও অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িতদের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় আমলে নেওয়া হবে না। দায়িত্বভার গ্রহণের পর বুধবার রাজধানীর এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মেগাসিটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংবাদমাধ্যমের সহযোগিতার ওপর জোর দিয়ে ডিএমপি প্রধান বলেন, প্রায় তিন কোটি মানুষের এই জনবহুল শহরের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ নিরলস কাজ করছে। বর্তমানে ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন ডিজিটাল অপরাধ বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলতি মাসের শুরু থেকেই বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছে মহানগর পুলিশ। বিশেষ করে সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করা হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ডিবির ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব এ ধরনের মামলার তদন্তে বড় ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ে ডিএমপি কমিশনার জানান, ঢাকার যানজট নিরসনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিসম্পন্ন ক্যামেরা ব্যবহারের পাশাপাশি ভিডিও ফুটেজের সহায়তায় ডিজিটাল পদ্ধতিতে মামলা ও জরিমানা আদায় শুরু হয়েছে। এছাড়া সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে অনলাইন জিডি, হ্যালো ডিএমপি অ্যাপ এবং হোটেল বর্ডার ইনফরমেশন সিস্টেমের মতো ডিজিটাল সেবা চালু করা হয়েছে।
সামনে আগত ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোরবানির পশুর হাট, ঈদের প্রধান জামাত এবং কেনাকাটার স্থানগুলোতে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন থাকবে। সাধারণ মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে বিভিন্ন টার্মিনালে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং অতিরিক্ত ভাড়া বা যাত্রী বহনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সাথে উৎসবের মৌসুমে অজ্ঞান পার্টি বা জাল নোট চক্রের দৌরাত্ম্য রুখতে গোয়েন্দা বিভাগসহ থানা পুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বড় অংকের লেনদেনের ক্ষেত্রে তিনি নাগরিকদের পুলিশের সাহায্য নেওয়ার পরামর্শ দেন।
পরিশেষে ডিএমপি কমিশনার উল্লেখ করেন যে, এককভাবে পুলিশের পক্ষে পুরো মহানগরের অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব নয়। এজন্য মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা এবং প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। যেকোনো অপরাধের তথ্য দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে বা জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ যোগাযোগের আহ্বান জানান তিনি। একই সাথে সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, পুলিশের ভুলভ্রান্তির যৌক্তিক সমালোচনার পাশাপাশি ভালো কাজের প্রচারও জরুরি, যা সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন হতে উদ্বুদ্ধ করবে।







