দেশে চলমান হামের সংক্রমণকে একটি বড় ধরনের সমন্বিত সংকট হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন।
এই রোগের প্রকোপে কোমলমতি শিশুরা সবচেয়ে বেশি বিপদের সম্মুখীন হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করায় বর্তমান পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে উন্নতির দিকে যাচ্ছে।
রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম মিলনায়তনে আয়োজিত একটি বিশেষ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব তথ্য জানান। দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া হামের প্রকোপ রুখতে চিকিৎসক ও চিকিৎসাকর্মীদের ভূমিকা এবং জনসাধারণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
বক্তব্য প্রদানকালে মন্ত্রী দেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণে বিএনপি সরকারের সার্বক্ষণিক পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সাথে পূর্ববর্তী সরকারের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছর ধরে মেগা প্রজেক্টের আড়ালে বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতিতে মগ্ন ছিল তৎকালীন প্রশাসন, যার বড় একটি প্রভাব পড়েছে স্বাস্থ্য খাতের ওপর।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অতীতের তুলনায় বর্তমানে হাম ও জলবসন্তের মতো সংক্রামক রোগের হার অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে। তাই এই পরিস্থিতি নিয়ে অতিরিক্ত ভীত না হয়ে সবাইকে মানসিক শক্তি বজায় রাখার পরামর্শ দেন তিনি। শিশুদের শারীরিক পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং এই রোগের হাত থেকে সুরক্ষার উপায়গুলো সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান মন্ত্রী।
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান এবং বিএমএ ও ড্যাবের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়। সভায় মূল বক্তব্য ও প্রবন্ধ পাঠ করেন বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম।
সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে আরও প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মুসাররাত সুলতানা সুমি এবং আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সুফিয়া খাতুন।
উক্ত আলোচনা সভায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. মনিরুজ্জামান, জাতীয় নিউরোসাইন্স ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নুরুজ্জামান খসরু, মুগদা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মোশাররফ হোসেন এবং স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. জাকির হোসেন। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. রফিকুল কবীর লাবু এবং সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. খায়রুজ্জামানসহ দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা, শল্যবিদ ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।







