জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উদ্যাপনের অংশ হিসেবে সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানটের উদ্যোগে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী নজরুল উৎসব। শুক্রবার সন্ধ্যায় ছায়ানট মিলনায়তনে বাণী, সুর, কবিতা ও নৃত্যের নান্দনিক মেলবন্ধনে এই উৎসবের পর্দা ওঠে।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই ছায়ানটের একঝাঁক শিল্পীর সম্মিলিত কণ্ঠে ‘স্নিগ্ধ শ্যাম কল্যাণ রূপে’ গানটি পরিবেশনের মাধ্যমে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী পর্বের বিশেষ কথন পর্বে অংশ নেন সংগঠনের সহ-সভাপতি খায়রুল আনাম শাকিল।
এরপর মঞ্চে পরিবেশিত হয় ‘সপ্তগীতির মালায় গাঁথা নজরুলের স্বদেশবার্তা’ শীর্ষক একটি বিশেষ আলেখ্য, যেখানে কবির দেশপ্রেম, দ্রোহের চেতনা এবং অসাম্প্রদায়িক মানবতাবোধের নানা দিক তুলে ধরা হয়। বিশিষ্ট আবৃত্তিশিল্পী ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেপথ্য ধারাভাষ্যে কবির জীবন ও সংগ্রামের বিভিন্ন পটভূমি মূর্ত হয়ে ওঠে। এর সঙ্গে ডালিয়া আহমেদ এবং আশরাফুল হাসান বাবুর বলিষ্ঠ বাচনে কবির কালজয়ী সৃষ্টি ‘১৯২১-এর ডিসেম্বর’, ‘বিদ্রোহী’, ‘মানুষ’ ও ‘নদী’ কবিতার নির্বাচিত অংশ ভিন্ন এক মাত্রা যোগ করে।
উৎসবে একক ও দ্বৈত সংগীত পরিবেশন করেন শ্রাবন্তী ধর, প্রমিতা দেব এবং মিরাজুল জান্নাত সোনিয়া। তাঁদের সুনিপুণ কণ্ঠে গীত ‘ভায়ের দোরে ভাই কেঁদে যায়’, ‘নমঃ নমঃ নমো বাংলাদেশ মম’ এবং ‘যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল’ গানগুলো উপস্থিত শ্রোতাদের মাঝে গভীর আবেগ তৈরি করে।
অনুষ্ঠানের পরের অংশে ‘দুর্গম গিরি কান্তার মরু’, ‘জাগো অনশন বন্দী ওঠ রে যত’ এবং ‘সাম্যের কবি’সহ কবির বৈপ্লবিক ও সাম্যবাদী চিন্তাধারার নানা রূপ ফুটিয়ে তোলা হয়। খায়রুল আনাম শাকিল, ডালিয়া আহমেদ ও আশরাফুল হাসান বাবুর সম্মিলিত কাব্যিক আবহে কবির দ্রোহের বাণী যেন নতুন করে প্রতিধ্বনিত হয়।
এরপর একক সংগীত পরিবেশনায় অংশ নেন ঐশ্বর্য সমাদ্দার, নন্দিতা দাশ দিশা, শরিফুর রহমান, শর্মিষ্ঠা দাশ, রুদ্র দাস, সুমন মজুমদার, নাসিমা শাহীন ফ্যান্সী, ইয়াসমিন মুশতারী ও প্রিয়াংকা গোপসহ একঝাঁক নবীন-প্রবীণ শিল্পী। পাশাপাশি সরকারি সংগীত মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি দলীয় পরিবেশনা মিলনায়তনে উপস্থিত দর্শকদের মাঝে উৎসবের আবহকে আরও সমৃদ্ধ করে।
কবির চিরন্তন বিদ্রোহ, প্রেম ও মানবতার চিরন্তন আহ্বানে পুরো ছায়ানট মিলনায়তন মুখরিত হয়ে ওঠে। সবশেষে ‘ঝড় এসেছে ঝড় এসেছে’ এবং ‘তোরা দেখে যা আমিনা’ গান দুটির সম্মেলক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় উৎসবের প্রথম রজনী। আগামীকাল শনিবার একই ভেন্যুতে সমাপনী আয়োজনের মধ্য দিয়ে দুই দিনের এই উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।







