বিগত চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়া অঞ্চলে ছয়জন নাগরিককে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর ভাগ্য নির্ধারণ হতে যাচ্ছে আজ।
মঙ্গলবার এই মামলার রায় প্রকাশের জন্য দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এর আগে দুই পক্ষের দীর্ঘ সওয়াল-জওয়াব ও আইনি যুক্তিতর্ক পর্যালোচনা শেষে গত ২২ জুন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী রায়ের জন্য এই তারিখ চূড়ান্ত করেন।
চলতি বছরের মে মাসের মাঝামাঝিতে উভয় পক্ষের চূড়ান্ত আইনি বিতর্ক শেষ হওয়ার পর আদালত মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছিলেন। এই মামলার একমাত্র অভিযুক্ত হিসেবে সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বর্তমানে কারান্তরীণ রয়েছেন। মামলার নথিপত্র থেকে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে কুষ্টিয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে ছয়জন নিহতের ঘটনা এবং আন্দোলন দমনে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে ট্রাইব্যুনালে এই মামলাটি দায়ের করা হয়। গত বছর অর্থাৎ পঁচিশের মার্চে এই ঘটনার আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করে তদন্ত সংস্থা, যার প্রতিবেদন ওই বছরের সেপ্টেম্বরে আদালতে জমা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে নভেম্বরের শুরুতে ট্রাইব্যুনাল আসামির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট আইনি অভিযোগ গঠন করে বিচার প্রক্রিয়ার সূচনা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষ বা প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জাসদ সভাপতির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, নিজের সংসদীয় এলাকা কুষ্টিয়ায় ছয়জন বিক্ষোভকারীকে হত্যায় প্ররোচনা দেওয়া, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশে থেকে আন্দোলনকারীদের দমনে সরাসরি বলপ্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া এবং কুষ্টিয়ার তৎকালীন পুলিশ সুপারকে মুঠোফোনে কল করে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানোর আদেশ দেওয়া।
এই বিচার প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষে ১০ জন এবং আসামির পক্ষে ২ জন সাফাই সাক্ষী তাদের জবানবন্দি পেশ করেন। এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে শুরু হয়ে মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত এই মামলায় দুই পক্ষের আইনজীবীরা তাদের সমাপনী বক্তব্য আদালতে উপস্থাপন করেন।
উল্লেখ্য, গণ-আন্দোলনের সময়ে কুষ্টিয়ায় প্রাণ হারানো ছয়জনের মধ্যে রয়েছেন শ্রমজীবী আশরাফুল ইসলাম ও সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন ও উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী এবং চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ। চব্বিশের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ওই মাসের ছাব্বিশ তারিখে রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে হাসানুল হক ইনুকে গ্রেপ্তার করেছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।







