দেশের প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চলতি মাসের মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে লেবার রুম বা প্রসবকক্ষ চালুর নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসাকেন্দ্রের লাইসেন্স বাতিল করা হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
আজ সোমবার রাজধানীর বিজয়নগরে বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটি আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই কঠোর বার্তা দেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে পরিষ্কার করে বলেন, চলতি জুলাই মাসের মধ্যে সব বেসরকারি ক্লিনিকে প্রসবকক্ষ নিশ্চিত করতে হবে, অন্যথায় লাইসেন্স বাতিলের মতো কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
দেশের বর্তমান স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী জানান, গত দুই মাস ধরে উপজেলা পর্যায়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিবিড় কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পাশাপাশি ডেঙ্গুর লার্ভা ধ্বংস করার জন্য আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বিশেষ ট্যাবলেটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার সুবিধার্থে হাসপাতালে প্রয়োজনীয় শয্যা ও মোবাইল সেবার পরিধি বাড়ানো হয়েছে। কিছুদিন আগে স্যালাইনের যে সংকট দেখা দিয়েছিল, তা বর্তমানে কেটে গেছে এবং আমদানির পাইপলাইনে থাকা প্রচুর স্যালাইন দেশে আসায় এখন পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।
চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়ে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ডেঙ্গু রোগীর শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসার পরও চিকিৎসকরা সম্পূর্ণ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে না। বিশেষ করে প্লাজমা লিকেজের মতো জটিলতার আশঙ্কা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে চিকিৎসকদের কঠোর নজরদারি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার ডেঙ্গু পরিস্থিতি তুলনামূলক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং হামের টিকাদান কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এই নিয়োগে ৮০ হাজারই থাকবেন নারী কর্মী, যাদের একটি বড় অংশ মিডওয়াইফারি পেশার সঙ্গে যুক্ত হবেন।







