আর্কাইভ
ads
logo

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান ফেরার রায় বহাল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশকাল: ৯ জুলাই ২০২৬, ০২:০৯ পি.এম
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান ফেরার রায় বহাল

ads

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এর ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলসংক্রান্ত বিধান এবং সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে গণভোটের বিধান পুনর্বহালের বিষয়ে হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত বহাল থাকল।

বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ এ রায় দেন। পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা সব আপিল খারিজ করে দেন আদালত।

বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর পুরোটা বাতিল চেয়ে করা আবেদনসহ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব আপিলই আপিল বিভাগ খারিজ করেছেন।

তবে এ বিষয়ে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর বিস্তারিত জানা যাবে।

রায় ঘোষণার সময় আদালত কক্ষে সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাস করে। ওই সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৯৬ সালে প্রবর্তিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবলিত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করা হয়।

পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়। এর মধ্যে ছিল রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলাম বহাল রাখা, সংবিধানের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ এবং এর বাংলা ও ইংরেজি অনুবাদ সংযোজন, সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের বিধান, যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সব সরকারি কার্যালয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা।

এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুর ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণও পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের পঞ্চম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট পঞ্চদশ সংশোধনীর দুটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাতিল ঘোষণা করেন। এর মধ্যে ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপের বিধান এবং সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে গণভোটের বিধান পুনর্বহাল।

হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে গত বছরের ৩ নভেম্বর আপিল বিভাগে আবেদন করেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ চার নাগরিক। তারা পঞ্চদশ সংশোধনীর পুরো সংশোধনী বাতিলের আবেদন জানান।

এ ছাড়া হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে পৃথক আপিল করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেন এবং মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)।

আপিল বিভাগের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

বদিউল আলম মজুমদারসহ চার নাগরিকের পক্ষে শুনানি করেন ড. শরীফ ভূঁইয়া। তাকে সহায়তা করেন ব্যারিস্টার রেদওয়ানুল করিম। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। এইচআরএসএসের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার ইমরান সিদ্দিক এবং মো. মোফাজ্জল হোসেনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির।

এ ছাড়া তিন দিনব্যাপী শুনানিতে ইন্টারভেনার হিসেবে অংশ নেন ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিক ও ব্যারিস্টার মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন।



ads

এই বিভাগের আরও খবর

এই বিভাগের আরও খবর

ads
ads
manusherkotha

manusherkotha

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ