অরুণাচল প্রদেশের সীমান্তে ভারতের ভূখণ্ডের প্রায় ৬ থেকে ৭ কিলোমিটার ভেতরে প্রবেশ করে অবস্থান নিয়েছে চীনা সেনাবাহিনী। এ নিয়ে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে একাধিক স্থানে উত্তেজনা ও মুখোমুখি অবস্থান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশের (আইটিবিপি) মহাপরিচালক শত্রুজিৎ কাপুর। সরকারি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
উচ্চপর্যায়ের সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই মাসের শেষদিকে অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবানসিরি জেলার তাকসিং সার্কেলের আসাফিলা এলাকায় ভারত ও চীনের সীমান্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) ভারতীয় সীমান্তরেখার ধারণা অনুযায়ী প্রায় ৬ থেকে ৭ কিলোমিটার ভেতরে প্রবেশ করে তাঁবু স্থাপন করেছে। এর জবাবে সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে ভারতও।
চলতি বছরের জুলাইয়ে ভারতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের অংশগ্রহণ এবং দুই দেশের মধ্যে একাধিক উচ্চপর্যায়ের সীমান্ত বৈঠক হলেও অচলাবস্থার অবসান হয়নি।
আগস্টে ওয়ার্কিং মেকানিজম ফর কনসালটেশন অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশন (ডব্লিউএমসিসি) বৈঠক, বিশেষ প্রতিনিধিদের ২৫তম বৈঠক এবং সেপ্টেম্বরের শুরুতে অরুণাচলের বাচা-দামাই সীমান্ত পয়েন্টে প্রথমবারের মতো কোর কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে এসব উদ্যোগের পরও সীমান্ত পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।
রাজস্থানের আলোয়ারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অবসরগামী আইটিবিপি প্রধান শত্রুজিৎ কাপুর বলেন, সীমান্ত সুরক্ষায় প্রচলিত অস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন ও অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।
তিনি বলেন, চীনকে মোকাবিলা করতে হলে শুধু পুরোনো কৌশলের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে চীন অনেক এগিয়ে গেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি ইউক্রেন ও ইরানে ড্রোন ব্যবহারের কৌশলের উদাহরণ তুলে ধরেন।
আইটিবিপি মহাপরিচালক আরও জানান, আগামী তিন বছরের মধ্যে চীন সীমান্তের প্রতিটি ফরোয়ার্ড পোস্টে মাটির নিচে নিরাপদ আশ্রয়স্থল নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আধুনিক যুদ্ধকৌশলে মাটির ওপরের স্থাপনাগুলো সহজেই হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। এ কারণে সীমান্তে স্থায়ী ও নিরাপদ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে ভূগর্ভস্থ কাঠামো নির্মাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।