শুক্রবার সকালে সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী এলাকার ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে এই অগ্নিকাণ্ড ও গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে, যাদের মধ্যে সানি জলদাস ও পলাশ জলদাস ছাড়া দুই ভাই মনসুর আলী ও নাসির উদ্দিন রয়েছেন। তাদের সকলের বাড়ি স্থানীয় সীতাকুণ্ড এলাকাতেই। অপর নিহত ব্যক্তির বিস্তারিত পরিচয় অনুসন্ধানের কাজ চলছে।
স্থানীয় ও উদ্ধারকারী সূত্রে জানা যায়, সকালে প্রতিদিনের মতো জাহাজটিতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করছিলেন নিয়োজিত শ্রমিকরা। কাজের একপর্যায়ে হঠাৎ করেই জাহাজের অভ্যন্তরীণ একটি সুনির্দিষ্ট ট্যাংক থেকে মারাত্মক বিষাক্ত গ্যাস বের হতে শুরু করে এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর সদস্যরা দ্রত উদ্ধার অভিযান শুরু করেন এবং জাহাজের ভেতর থেকে তিনজনের দেহ বের করে নিয়ে আসেন।
দুর্ঘটনাস্থল থেকে অসুস্থ ও দগ্ধ বাকি শ্রমিকদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ও নিয়ে যাওয়ার পথেই আরও দুজনের জীবনাবসান ঘটে, যা পরবর্তীতে নিশ্চিত করেছে হাসপাতালটির দায়িত্বরত পুলিশ ফাঁড়ি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কারখানা কর্তৃপক্ষ এবং উদ্ধারকারী ফায়ার সার্ভিস বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা এই প্রাণহানির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, জাহাজের রুদ্ধদ্বার স্থানে জমা হওয়া বিপজ্জনক গ্যাস থেকে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। উদ্ধার কার্যক্রম ও সার্বিক দুর্ঘটনা তদন্তে ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ দল এখনো নজরদারি বজায় রাখছে।