বুধবার, 4 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

সেন্ট মার্টিনে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা, বিক্রি হয়েছে ৭০০ টিকিট

কক্সবাজার থেকে সেন্ট মার্টিনে পর্যটকবাহী তিনটি জাহাজ চলাচলের অনুমোদন ও সময়সূচি নির্ধারণ করা হলেও প্রথম যাত্রা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। এরই মধ্যে অনলাইনে ৭০০টির বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছে। তবে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে কোনো জাহাজ ছেড়ে যাবে না।

সেন্ট মার্টিনে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা, বিক্রি হয়েছে ৭০০ টিকিট
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজার থেকে সেন্ট মার্টিনে পর্যটকবাহী তিনটি জাহাজ চলাচলের অনুমোদন ও সময়সূচি নির্ধারণ করা হলেও প্রথম যাত্রা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। এরই মধ্যে অনলাইনে ৭০০টির বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছে। তবে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে কোনো জাহাজ ছেড়ে যাবে না।

বুধবার রাত ৮টার আগে জাহাজ মালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, অনলাইনে এরই মধ্যে ৭০০টির বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছে। কিন্তু জাহাজ চলাচলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি এবং প্রয়োজনীয় ছাড়পত্রও তাঁরা পাননি।

অন্যদিকে, কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুর রহমান সায়েম রাত ৮টায় জানান, বৃহস্পতিবার সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে কোনো জাহাজ ছেড়ে যাবে না।

টিকিট বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা এখন কথা বলে পেছানোর ব্যবস্থা করব এবং পরবর্তী ব্যবস্থা করব। বৃহস্পতিবার একটি সভা হবে। তারপর জানাতে পারব কবে থেকে জাহাজ চলবে।”

তবে এমভি টেকনাফের ব্যবস্থাপক আকতার নূর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানান, বৃহস্পতিবার থেকে তাঁদের জাহাজের টিকিট বিক্রি শুরু হবে। প্রথম যাত্রা হবে ৬ নভেম্বর।

তিন জাহাজের অনুমোদন

নৌপরিবহন অধিদপ্তর ৩ নভেম্বর সেন্ট মার্টিন রুটে চলাচলের জন্য তিনটি জাহাজকে সাময়িক ভয়েজ লাইসেন্স দেয়। জাহাজগুলো হলো এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, এমভি বার আউলিয়া ও এমভি টেকনাফ।

এরপর ৪ নভেম্বর বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) জাহাজগুলোর রুট পারমিট ও চলাচলের সময়সূচি অনুমোদন করে। সেই অনুযায়ী, ৫ নভেম্বর থেকে জাহাজগুলোর চলাচল শুরুর কথা ছিল।

তিনটি জাহাজের সম্মিলিত যাত্রী ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২৯৮ জন। সরকারের নির্ধারিত দৈনিক ৩ হাজার ৫০০ পর্যটক প্রবেশের সীমার মধ্যেই রয়েছে এই সংখ্যা।

অনুমোদিত সময়সূচি অনুযায়ী, এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে, এমভি বার আউলিয়া সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে এবং এমভি টেকনাফ সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া ঘাট থেকে সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা।

ফেরার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে যথাক্রমে দুপুর ২টা ১৫ মিনিট, দুপুর ২টা ৩০ মিনিট এবং বিকেল ৩টা ৩০ মিনিট।

টিকিট বিক্রি ও যাত্রা নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য

জাহাজ মালিকদের সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, “সিদ্ধান্ত হয়নি। অলরেডি অনলাইনে ৭০০ এর অধিক টিকেট কাটা হয়ে গেছে। কিন্তু এখনও আমরা ক্লিয়ারেন্স পাই নাই। কালকে ঘাটে কী হয়, আল্লাহই ভালো জানে। আমি জানি না।”

অন্যদিকে, এমভি টেকনাফের ব্যবস্থাপক আকতার নূর এক বার্তায় বলেন, “আমাদের টানা অক্লান্ত পরিশ্রমের সুফল শুরু হলো। আজ থেকেই টিকেট কাটা যাবে এমভি টেকনাফের। কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত শুরু হলো অবশেষে।”

তিনি জানান, এমভি টেকনাফের প্রথম যাত্রা হবে ৬ নভেম্বর।

জেলা প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার জাহাজ চলাচল করবে না। জাহাজ মালিকদের সঙ্গে প্রশাসনের বৈঠকের পর এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

যাত্রীদের জন্য ট্রাভেল পাস বাধ্যতামূলক

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে আগ্রহী পর্যটকদের বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের নির্ধারিত ওয়েবসাইট বা অ্যাপ থেকে কিউআর কোডযুক্ত ডিজিটাল ট্রাভেল পাস সংগ্রহ করতে হবে।

ট্রাভেল পাস ছাড়া কোনো টিকিট ইস্যু করা যাবে না। কিউআর কোড ছাড়া টিকিটও গ্রহণযোগ্য হবে না। এ ছাড়া কোনো জাহাজ কোম্পানি একবারে ১৫ দিনের বেশি সময়ের অগ্রিম টিকিট বিক্রি করতে পারবে না।

পরিবেশ রক্ষায় নানা বিধিনিষেধ

সেন্ট মার্টিনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে পর্যটকদের জন্য বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার।

নির্দেশনা অনুযায়ী, চিপসের প্যাকেট, প্লাস্টিকের চামচ, স্ট্র, শ্যাম্পু ও সাবানের ছোট প্যাকেট এবং ৫০০ ও ১ হাজার মিলিলিটারের প্লাস্টিকের পানির বোতল দ্বীপে নেওয়া যাবে না। পর্যটকদের সঙ্গে নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক রাখতে বলা হয়েছে।

রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ করা এবং বারবিকিউ পার্টির আয়োজন নিষিদ্ধ। সৈকতে মোটরসাইকেল ও সি-বাইক চালানো, কেয়াবনে প্রবেশ এবং প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, কচ্ছপসহ সামুদ্রিক প্রাণীর ক্ষতি করাও নিষেধ।

জাহাজ থেকে সাগরে উড়ন্ত পাখিদের খাবার দেওয়ার ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। জাহাজে বর্জ্য সংরক্ষণ ও পরিশোধনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখতে হবে। পাশাপাশি মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়ার কোর এলাকায় কোনো জাহাজ প্রবেশ করতে পারবে না।

আবহাওয়া প্রতিকূল হলে অথবা সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর বা তার বেশি স্থানীয় সতর্কসংকেত জারি থাকলে জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখতে হবে। মিয়ানমার সীমান্তের পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার যেকোনো সময় নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারবে।

সেন্ট মার্টিনে পর্যটন মৌসুম ১ নভেম্বর শুরু হয়ে ১৫ মার্চ পর্যন্ত চলার কথা। তবে মৌসুম শুরু হলেও জাহাজ চলাচলের তারিখ নিয়ে প্রশাসন ও জাহাজ মালিকদের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। ফলে দ্বীপে ভ্রমণের পরিকল্পনা করা পর্যটকদের যাত্রা শুরুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে।