বেতন বাড়ানোর দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন রয়েছে বলে মনে করছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। রোববার নতুন ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দিয়ে শ্রমিকদের সড়ক ছেড়ে কারখানায় ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে শ্রমমন্ত্রী ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের পাশাপাশি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের জন্য আলাদা মজুরি বোর্ড গঠনের কথাও জানান।
শ্রমিকদের আন্দোলন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, শ্রমিকেরা বলছেন, এখনো মজুরি বোর্ড ঘোষণা করা হয়নি। অথচ তাঁদের নেতাদের উপস্থিতিতেই রোববার বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছিল। তাঁর মতে, কয়েকটি রাজনৈতিক সংগঠন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে—বিষয়টি স্পষ্ট।
মন্ত্রী যখন সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করছিলেন, তখন রাজধানীর মিরপুরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছিলেন পোশাকশ্রমিকেরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাঁদের সংঘর্ষ হয়। কয়েক ঘণ্টার জন্য মেট্রোরেল চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়। ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে কয়েক দিন ধরেই আন্দোলন করছেন শ্রমিকেরা। এর ধারাবাহিকতায় রোববার সকাল থেকে মিরপুরে সড়ক অবরোধ করেন তাঁরা।
শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দাবি ও অধিকার সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে উল্লেখ করে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, শ্রমিকদের দাবি ছিল মজুরি বোর্ড গঠন করা। তাঁদের প্রতিনিধির অন্তর্ভুক্তিতে আজ সেই বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এখন শ্রমিকেরা সড়ক ছেড়ে কারখানায় কাজে যোগ দেবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সরকার ঘোষিত ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়েছে সিনিয়র জেলা জজ শেখ আশফাকুর রহমানকে। বোর্ডে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুব, শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন এবং নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মোসলেহ উদ্দিন আহমদ রয়েছেন।
এ ছাড়া তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে ছয় সদস্যের পৃথক একটি বোর্ড গঠন করেছে সরকার। শ্রম আইন অনুযায়ী, মূল ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের চার সদস্যের সঙ্গে পোশাকশিল্পের মালিক ও শ্রমিকপক্ষের একজন করে প্রতিনিধি যুক্ত করে এই বোর্ড গঠন করা হয়েছে।
পৃথক বোর্ডে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পরিচালক এ বি এম সামছুদ্দিন এবং শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতারকে রাখা হয়েছে।
বোর্ডের সদস্যদের দ্রুত বৈঠকে বসার আহ্বান জানিয়ে শ্রমমন্ত্রী বলেন, মালিক ও শ্রমিক—উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরাই বোর্ডে রয়েছেন। তাঁরাই আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবেন। এখন বিষয়টি তাঁদের ওপর নির্ভর করছে।
মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেওয়ার পরও শ্রমিকদের বিক্ষোভ অব্যাহত থাকায় রাজনৈতিক ইন্ধনের অভিযোগ পুনর্ব্যক্ত করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, শ্রমিকদের আগেই জানানো হয়েছিল, রোববার মজুরি বোর্ড গঠন করা হবে এবং তাঁদের কারখানায় অবস্থান করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কয়েকটি কারখানায় অকারণে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।