বুধবার, 4 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

পোশাক শ্রমিক আন্দোলনে ৬৮১ কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত

কর্মবিরতি ও টানা আন্দোলনের কারণে প্রায় ৬৮১টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক কাজকর্ম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত, যার মধ্যে ৬৭৯টি প্রতিষ্ঠানই তৈরি পোশাক খাতের। এর আগে রবিবারও ৫২৯টি পোশাক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে কাজ বন্ধ ছিল।

পোশাক শ্রমিক আন্দোলনে ৬৮১ কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত
বেতন বাড়ানোর দাবিতে তৈরি পোশাকশিল্পের কর্মীদের চলমান বিক্ষোভের জেরে দেশের প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলোতে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কর্মবিরতি ও টানা আন্দোলনের কারণে প্রায় ৬৮১টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক কাজকর্ম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত, যার মধ্যে ৬৭৯টি প্রতিষ্ঠানই তৈরি পোশাক খাতের। এর আগে রবিবারও ৫২৯টি পোশাক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে কাজ বন্ধ ছিল।

গত সপ্তাহ থেকে মূলত সাভার ও গাজীপুরসহ সংলগ্ন এলাকাগুলোতে পারিশ্রমিক বাড়ানোর দাবিতে এই অস্থিরতা শুরু হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় রবিবার শ্রম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করা হলেও কর্মীদের ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। ফলশ্রুতিতে সোমবারও গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় বেশ কয়েকটি স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে তাদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) দেওয়া পরিসংখ্যান অনুসারে, এদিন ৬৭৯টি পোশাক কারখানার কর্মীরা কাজে যোগ না দিয়েই বেরিয়ে যান। নির্দিষ্টভাবে মিরপুরের ৬৫টি, গাজীপুরের ৩৮২টি এবং সাভার, আশুলিয়া ও জিরানি অঞ্চলের ৯টি প্রতিষ্ঠান এই তালিকায় রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে সব মিলিয়ে প্রায় ১৬ লাখ ৯২ হাজার ৭৮২ জন কর্মী নিযুক্ত আছেন। পোশাক খাতের বাইরে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অবস্থিত একটি দেশীয় জুতা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান সকালে কাজ শুরু করলেও আন্দোলনকারীদের চাপে সকাল ৯টার দিকে বাধ্য হয়ে ছুটি ঘোষণা করে। পাশাপাশি আশুলিয়ায় অবস্থিত পিকার্ড বাংলাদেশের কারখানায়ও স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

শিল্পাঞ্চলের এই অস্থিতিশীল পরিবেশ শান্ত করতে সোমবার সকালে সচিবালয়ে মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে বসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পরবর্তীতে বিকেলে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে যৌথভাবে আলোচনায় অংশ নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানান, কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার কোনো সদিচ্ছা তাদের নেই, তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে কাজ চালিয়ে নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবারও তারা প্রতিষ্ঠানগুলো খোলা রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলে জানান। তবে পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নতি না ঘটলে শেষ পর্যন্ত কারখানা বন্ধ ঘোষণার মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তবে সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত চেষ্টায় দ্রুতই এই সংকট কেটে যাবে বলে তিনি আশাবাদী।