রবিবার, 1 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

থাইল্যান্ডকে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্ক কমানো ও আমদানি বাড়ানোর প্রস্তাব

থাইল্যান্ডের সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে দেশটি থেকে বাংলাদেশি পণ্যের আমদানি বাড়ানোর পাশাপাশি শুল্ক কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে ওষুধ, পাট ও পাটজাত পণ্য আরও বেশি পরিমাণে আমদানির জন্য থাইল্যান্ডকে আহ্বান জানিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে থাই বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

থাইল্যান্ডকে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্ক কমানো ও আমদানি বাড়ানোর প্রস্তাব
ছবি: সংগৃহীত

থাইল্যান্ডের সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে দেশটি থেকে বাংলাদেশি পণ্যের আমদানি বাড়ানোর পাশাপাশি শুল্ক কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে ওষুধ, পাট ও পাটজাত পণ্য আরও বেশি পরিমাণে আমদানির জন্য থাইল্যান্ডকে আহ্বান জানিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে থাই বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার ব্যাংককে অনুষ্ঠিত দুই দেশের চতুর্থ ফরেন অফিস কনসালটেশনে (এফওসি) এসব প্রস্তাব তুলে ধরে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলমান বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশের পাশাপাশি বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বাংলাদেশ দুটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছে। প্রথমত, বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি পরিমাণে ওষুধ, পাট ও পাটজাত পণ্য আমদানি করতে হবে। দ্বিতীয়ত, থাইল্যান্ডের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়াতে শুল্ক কমাতে হবে।

বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম। অন্যদিকে থাইল্যান্ডের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব একসিরি পিনতারুচি।

দুই দেশের বাণিজ্যে এখনো বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা রয়েছে। ২০২৫ সালে বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে আমদানি-রপ্তানির মোট পরিমাণ ছিল ১১০ থেকে ১৫০ কোটি ডলার। এর বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে থাইল্যান্ডে পণ্য রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১০ কোটি ডলারেরও কম।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশের দেওয়া প্রস্তাবগুলো বিবেচনা এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করেছে থাইল্যান্ড। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) আলোচনা দ্রুত শুরু করার অনুরোধ জানিয়েছে দেশটি।

বৈঠকে গত সেপ্টেম্বরে চট্টগ্রাম ও থাইল্যান্ডের রানং বন্দরের মধ্যে সরাসরি জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় উভয় দেশ সন্তোষ প্রকাশ করে। এই নৌপথ চালুর ফলে পণ্য পরিবহনে আগের ১৫ দিনের পরিবর্তে চার দিন সময় লাগতে পারে। এতে পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থার ব্যয় কমার পাশাপাশি দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছে উভয়পক্ষ।

এ ছাড়া ফলমূল ও সবজি প্রক্রিয়াজাতকরণে থাইল্যান্ডের কারিগরি সহযোগিতা ও বিনিয়োগ চেয়েছে বাংলাদেশ। হালাল খাদ্যপণ্যের বাজার সম্প্রসারণে প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়েও দেশটির সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

থাইল্যান্ডের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা ‘টিকা’র কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশের পেশাজীবীদের বিভিন্ন খাতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার প্রস্তাবও দিয়েছে সরকার। এসব খাতের মধ্যে রয়েছে হসপিটালিটি, নার্সিং, জার্মপ্লাজম ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ।

অন্যদিকে থাইল্যান্ড তাদের ‘এক গ্রাম এক পণ্য’ কর্মসূচির অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের সঙ্গে বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

জ্বালানি খাতেও দুই দেশের চলমান সহযোগিতা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করা হয় বৈঠকে। বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে অন্তত ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের জাতীয় লক্ষ্যের কথা তুলে ধরে। এ লক্ষ্য অর্জনে কৃষি অবশিষ্টাংশ ও কৃষি-শিল্প বর্জ্য ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে থাইল্যান্ডের কারিগরি দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ।

আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। আসিয়ানের ‘সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার’ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা পূরণ এবং আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (আরসিইপি) জোটে বাংলাদেশের যোগদানের ক্ষেত্রে অব্যাহত সমর্থনের জন্য থাইল্যান্ডের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায় বাংলাদেশ।

এ ছাড়া সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে দুই দেশ। এ ক্ষেত্রে ক্রিকেট ও সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণে বাংলাদেশের দক্ষতা বিনিময়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিপরীতে থাইল্যান্ড তায়কোয়ান্দো প্রশিক্ষণে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে।