শনিবার, 31 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা ফেরাতে উদ্যোগী যুক্তরাষ্ট্র, তেহরানে কাতারের প্রতিনিধিদল

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে নতুন করে শান্তি আলোচনা শুরুর উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্যে ইরানের এক শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তার কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। একই সময়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা এগিয়ে নিতে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের একটি প্রতিনিধিদল শুক্রবার তেহরানে পৌঁছেছে।

ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা ফেরাতে উদ্যোগী যুক্তরাষ্ট্র, তেহরানে কাতারের প্রতিনিধিদল
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে নতুন করে শান্তি আলোচনা শুরুর উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্যে ইরানের এক শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তার কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। একই সময়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা এগিয়ে নিতে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের একটি প্রতিনিধিদল শুক্রবার তেহরানে পৌঁছেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট বৃহস্পতিবার এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, গত সপ্তাহে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ির কাছে চিঠি পাঠান ভ্যান্স। এতে যুদ্ধ বন্ধে নতুন করে শান্তি আলোচনা শুরুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে ওয়াশিংটনের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং দেশটির জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার বিষয়েও তেহরানের স্বার্থকে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এ ছাড়া ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য অনুমোদিত প্রতিনিধি নিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট।

ওই মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, দুই দেশ সরাসরি আলোচনায় সম্মত হলে ভ্যান্স ও রেজায়ির মধ্যে বৈঠকের আয়োজন করতে পারে তুরস্কের ইস্তাম্বুল অথবা কাতারের রাজধানী দোহা।

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তারা রেজায়িকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করেন। ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীতে তাঁর প্রভাব রয়েছে এবং দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মুজতাবা খামেনির সঙ্গেও তাঁর সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স আলোচনার বিষয়ে অবগত এক কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা এগিয়ে নিতে কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা শুক্রবার তেহরানে পৌঁছেছেন।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং দেশটির ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যে মতপার্থক্য রয়েছে, তা কমিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা।

তবে চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রক্রিয়ায় কোন বিষয়টি আগে এবং কোনটি পরে সমাধান করা হবে, তা নিয়ে দুই পক্ষ এখনো একমত হতে পারেনি। ওয়াশিংটন শুরু থেকেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়গুলোকে আলোচনার কেন্দ্রে রেখে সমাধান চায়। অন্যদিকে তেহরানের দাবি, আলোচনায় অগ্রসর হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং তেল রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে।

গত রোববার কাতার ইরানের কাছে একটি খসড়া শান্তি প্রস্তাব উপস্থাপন করেছিল। তবে পরে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা প্রস্তাবটিকে ‘গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসবে না তেহরান।

ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, কাতারের প্রতিনিধিরা রেজায়ি ছাড়াও ইরানের অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।

এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের সরাসরি চিঠি পাঠানোর ঘটনাকে ইরানি নেতারা সম্মানের নিদর্শন হিসেবে দেখছেন। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তেহরান তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেছে, এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর মধ্য দিয়ে সংঘাতের সূচনা হয়। এর জবাবে ইরানও ইসরায়েল এবং কয়েকটি আরব দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়।

পরবর্তী সময়ে জুন মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে দুই দেশ আলোচনাও শুরু করেছিল। কিন্তু হরমুজ প্রণালিতে অবাধ ও নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টি নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেওয়ায় সেই আলোচনা শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যায়।