শনিবার, 31 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

সৌদির বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় ছয় হামলার দাবি হুতিদের

সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর, তেল শোধনাগার ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ছয়টি হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে দেশটির পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চল, রাজধানী রিয়াদ এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় নাজরানে এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে গোষ্ঠীটি। তবে হামলার দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

সৌদির বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় ছয় হামলার দাবি হুতিদের
ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর, তেল শোধনাগার ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ছয়টি হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে দেশটির পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চল, রাজধানী রিয়াদ এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় নাজরানে এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে গোষ্ঠীটি। তবে হামলার দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এসব হামলার কথা জানান।

তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে রাস তানুরা তেল শোধনাগার, আবকাইক এলাকায় সৌদি আরামকোর একটি স্থাপনা, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, রাবিগ তেল শোধনাগার এবং নাজরানে সৌদি সামরিক বাহিনীর একটি সদর দপ্তর।

রাস তানুরা, আবকাইক ও রাবিগ সৌদি আরবের জ্বালানি খাতের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। অন্যদিকে রিয়াদ ও দাম্মামের বিমানবন্দর দুটি দেশটির বেসামরিক ও সামরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে এসব স্থাপনায় কখন হামলা চালানো হয়েছে, কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কিংবা কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেননি হুতি মুখপাত্র।

এর আগে বৃহস্পতিবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, রিয়াদ লক্ষ্য করে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করে ধ্বংস করেছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকির বরাতে এ তথ্য জানানো হয়।

সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর ছড়িয়ে পড়া ধ্বংসাবশেষে রিয়াদে এক সৌদি নাগরিক আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একটি বাড়ি ও একটি গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া রিয়াদ, আল-খারজ ও নাজরান এলাকায় সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছিল। তবে এসব ঘটনা হুতিদের ঘোষিত ছয়টি হামলার অন্তর্ভুক্ত কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে যখন কূটনৈতিক তৎপরতা চলছিল, ঠিক সেই সময় হুতিদের পক্ষ থেকে নতুন হামলার দাবি সামনে এল। গত সোমবার তেহরানে ইরান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন অংশ নেন।

ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ির আয়োজনে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে চার দেশ আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে আলোচনা অব্যাহত রাখার কথা জানায়। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সামরিক উত্তেজনা এড়িয়ে কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা রাখার ওপর গুরুত্ব দেয়।

ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে। অন্যদিকে দেশটির সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করছে হুতি বিদ্রোহীরা। ইয়েমেনে সৌদি আরবের সামরিক ভূমিকার পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে সৌদি ভূখণ্ডে হামলা চালানোর দাবি করে আসছে গোষ্ঠীটি।

এমন পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক যোগাযোগ চলার মধ্যেই সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে হামলার নতুন দাবি উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।