শুক্রবার, 30 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

রাশিয়া নিয়ে বক্তব্য সংযত করতে ইউরোপকে যুক্তরাষ্ট্রের পরামর্শ

রাশিয়ার হুমকি নিয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সংযত থাকার জন্য ইউরোপের কয়েকটি দেশকে পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে মস্কোকে উসকানি না দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। ওয়াশিংটনের মতে, রাশিয়াকে ঘিরে ইউরোপীয় নেতাদের কিছু প্রকাশ্য মন্তব্য মহাদেশটির নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

রাশিয়া নিয়ে বক্তব্য সংযত করতে ইউরোপকে যুক্তরাষ্ট্রের পরামর্শ

রাশিয়ার হুমকি নিয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সংযত থাকার জন্য ইউরোপের কয়েকটি দেশকে পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে মস্কোকে উসকানি না দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। ওয়াশিংটনের মতে, রাশিয়াকে ঘিরে ইউরোপীয় নেতাদের কিছু প্রকাশ্য মন্তব্য মহাদেশটির নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ন্যাটোর কয়েকটি দেশকে এ বিষয়ে অনুরোধ জানিয়েছে পেন্টাগন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনজন ইউরোপীয় কর্মকর্তা ও একজন মার্কিন কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া ও এস্তোনিয়াকে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের মাধ্যমে বক্তব্য সংযত করার বার্তা দেওয়া হয়েছে। তবে ইউরোপের অন্য দেশগুলোকেও একই পরামর্শ দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান পঞ্চম বছরে গড়িয়েছে। ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক উদ্যোগে মস্কোকে বিভিন্ন প্রণোদনা দেওয়ার বিষয় রয়েছে। এর মধ্যে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার প্রস্তাবও অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় ইউক্রেনের হামলা বন্ধ করতে কিয়েভের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে যুক্তরাষ্ট্র।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা বলেন, মিত্রদের মধ্যে ব্যক্তিগত আলোচনা ব্যক্তিগতই থাকে। তাই এ ধরনের অভিযোগ নিয়ে তাঁরা মন্তব্য করবেন না।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের উদ্বেগের কারণ ইউরোপীয় নেতাদের কিছু প্রকাশ্য বক্তব্য। এসব বক্তব্যে বলা হয়েছে, রাশিয়া বর্তমানে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে এবং ইউক্রেনে তাদের সামরিক অভিযান কার্যত স্থবির হয়ে আসায় মস্কো মরিয়া পদক্ষেপ নিচ্ছে।

ইউরোপে মার্কিন সেনা উপস্থিতির মাত্রা পুনর্মূল্যায়নের চলমান প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন পেন্টাগনের নীতিবিষয়ক প্রধান এলব্রিজ কলবি। ইউরোপীয় দেশগুলোকে বক্তব্য সংযত করার বার্তা দেওয়া মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে তিনিও রয়েছেন। তবে এ উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের আর কোন কোন কর্মকর্তা অংশ নিয়েছেন, তা জানা যায়নি। সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইউরোপীয় দেশগুলোকে দেওয়া পরামর্শ কোনো বিরোধপূর্ণ বা আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে উপস্থাপন করা হয়নি।

রাশিয়াকে উসকানি না দেওয়ার পরামর্শ

রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়ে প্রকাশ্যে কীভাবে কথা বলা উচিত, তা নিয়ে ন্যাটোর সদস্যদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। পেন্টাগনের সাম্প্রতিক বার্তায় সেই বিতর্ক আরও সামনে এসেছে।

পশ্চিমা কর্মকর্তাদের একটি অংশ মনে করে, রাশিয়ার হুমকিকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরলে তা ক্রেমলিনের স্বার্থ রক্ষা করতে পারে। তাঁদের মতে, মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া এবং ইউক্রেনের প্রতি পশ্চিমা দেশগুলোর সমর্থন দুর্বল করা রাশিয়ার অন্যতম লক্ষ্য।

অন্যদিকে আরেকটি পক্ষের বক্তব্য, রাশিয়ার হুমকির বিষয়টি ইউরোপের জনগণের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। কারণ, মস্কোকে প্রতিহত করতে প্রয়োজনীয় ত্যাগ স্বীকার এবং সম্পদ ব্যয়ের বিষয়ে জনগণকে অবহিত রাখা জরুরি। বিশেষ করে ইউরোপজুড়ে রাশিয়ার গোপন নাশকতামূলক তৎপরতা বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে নাশকতামূলক অভিযান পরিচালনার অভিযোগ অস্বীকার করেছে রাশিয়া। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি বাল্টিক অঞ্চলের এক কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকে এলব্রিজ কলবি রাশিয়াকে কোনোভাবেই খোঁচানো বা উসকানি দেওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন।

সূত্রটির দাবি, ইউরোপীয় নেতাদের প্রকাশ্যে রাশিয়াকে ‘কোণঠাসা ইঁদুর’ হিসেবে তুলনা করার বিষয়টি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন কলবি। তাঁর মতে, এ ধরনের বক্তব্য পরিস্থিতির জন্য সহায়ক নয়।

তবে কলবি ঠিক কোন বক্তব্যের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছিলেন, তা স্পষ্ট নয়। গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে এস্তোনিয়ার প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টেন মিখাল রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ‘কোণঠাসা ইঁদুর’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান স্থবির হয়ে পড়ায় পুতিন ইউরোপে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের আশ্রয় নিচ্ছেন।

পেন্টাগনের সাম্প্রতিক ব্যক্তিগত বার্তাগুলো সম্পর্কে এক ইউরোপীয় কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য ছিল, তারা ইউরোপকে সহায়তা করছে এবং সেখানে মার্কিন সেনারাও অবস্থান করছে। তবে এ নিয়ে বেশি উচ্চবাচ্য বা শোরগোল না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া সম্প্রতি পৃথক আরেকটি বৈঠকে এস্তোনিয়ার একটি প্রতিনিধিদলকে বক্তব্য ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে পরিমিত থাকার পরামর্শ দিয়েছে পেন্টাগন। বৈঠক সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে সেখানে পেন্টাগনের কর্মকর্তারা নির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন কি না, তা জানা যায়নি।