শুক্রবার, 30 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

যমুনায় ডুব দিয়ে ‘দূষণমুক্ত’ ঘোষণা বিজেপি এমপির

ভারতের রাজধানী দিল্লির যমুনা নদীর দূষণ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে নদীতে ডুব দিয়ে পানিকে পরিষ্কার বলে দাবি করেছেন বিজেপির সংসদ সদস্য মনোজ তিওয়ারি। শুধু নদীতে ডুব দেওয়াই নয়, পানি হাতে নিয়ে পানও করেছেন তিনি। তার দাবি, গত দেড় বছরে বিজেপি সরকারের উদ্যোগে যমুনার দূষণ প্রায় অর্ধেক কমেছে। তবে পরিবেশগত তথ্য বলছে, নদীর কয়েকটি অংশে দূষণের মাত্রা এখনো নির্ধারিত সীমার অনেক ওপরে রয়েছে।

যমুনায় ডুব দিয়ে ‘দূষণমুক্ত’ ঘোষণা বিজেপি এমপির

ভারতের রাজধানী দিল্লির যমুনা নদীর দূষণ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে নদীতে ডুব দিয়ে পানিকে পরিষ্কার বলে দাবি করেছেন বিজেপির সংসদ সদস্য মনোজ তিওয়ারি। শুধু নদীতে ডুব দেওয়াই নয়, পানি হাতে নিয়ে পানও করেছেন তিনি। তার দাবি, গত দেড় বছরে বিজেপি সরকারের উদ্যোগে যমুনার দূষণ প্রায় অর্ধেক কমেছে। তবে পরিবেশগত তথ্য বলছে, নদীর কয়েকটি অংশে দূষণের মাত্রা এখনো নির্ধারিত সীমার অনেক ওপরে রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দিল্লির সোনিয়া বিহার ঘাটে যমুনা নদীতে ডুব দেন উত্তর-পূর্ব দিল্লির এই সংসদ সদস্য। এ সময় তিনি বলেন, নদীতে পরিযায়ী পাখির উপস্থিতিই প্রমাণ করে পানির মানের উন্নতি হয়েছে। তার ভাষ্য, এখানে কুমির থাকতে পারে, আর কুমির সাধারণত পরিষ্কার পানিতেই বসবাস করে।

মনোজ তিওয়ারি আরও দাবি করেন, যমুনার পানি এখন ছটপূজার জন্য ব্যবহার করার উপযোগী। নদী পরিষ্কারে বিজেপি সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি আম আদমি পার্টির (এএপি) বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ তোলেন।

এদিকে বিজেপির দিল্লি শাখা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছে, তাদের সরকার দুই বছরে যমুনা পরিষ্কারে যে কাজ করেছে, কংগ্রেস ও এএপি ২৭ বছরেও তা করতে পারেনি। একই সঙ্গে দলটি সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে যমুনায় ডুব দেওয়ার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে।

বিজেপির এ দাবির জবাবে এএপির দিল্লি সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী সৌরভ ভরদ্বাজ বলেন, যমুনার পাল্লা থেকে ওয়াজিরাবাদ পর্যন্ত প্রায় ২৬ কিলোমিটার অংশ সব সময়ই তুলনামূলক পরিষ্কার ছিল। দিল্লি দূষণ নিয়ন্ত্রণ কমিটির প্রতিবেদন উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, এএপি সরকারের আমলে ওই অংশের পানির মান আরও ভালো ছিল।

পাল্টা চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মনোজ তিওয়ারি ও দিল্লির পানিসম্পদমন্ত্রী প্রবেশ ভার্মাকে কালিন্দী কুঞ্জ ঘাটের পানি পান করার আমন্ত্রণ জানান সৌরভ ভরদ্বাজ।

পরিসংখ্যানে কী বলছে যমুনার পানির অবস্থা?

প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় যমুনা নদীর দূষণের মাত্রা এক রকম নয়। পানির জৈব দূষণ পরিমাপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলো জৈব রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা (বিওডি)। পানিতে থাকা জৈব বর্জ্য ভাঙতে অণুজীবের যে পরিমাণ অক্সিজেন প্রয়োজন হয়, তার ভিত্তিতে এ সূচক নির্ধারণ করা হয়। সাধারণত বিওডির মাত্রা যত বেশি হয়, জৈব দূষণের পরিমাণও তত বেশি থাকে।

গোসলের উপযোগী পানির ক্ষেত্রে বিওডির গ্রহণযোগ্য মাত্রা প্রতি লিটারে ৩ মিলিগ্রাম বা তার কম। কিন্তু দিল্লির কয়েকটি পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে এই মাত্রা নির্ধারিত সীমার চেয়ে অনেক বেশি পাওয়া গেছে।

দিল্লিতে প্রবেশের স্থল পাল্লায় যমুনার পানিতে বিওডির মাত্রা প্রতি লিটারে ২ মিলিগ্রাম, যা গ্রহণযোগ্য সীমার মধ্যে রয়েছে। তবে আইএসবিটি সেতু এলাকায় এই মাত্রা বেড়ে ৩০ মিলিগ্রাম এবং আইটিও এলাকায় ১৮ মিলিগ্রামে পৌঁছেছে।

ফলে বিজেপি সংসদ সদস্যের নদীতে ডুব দিয়ে যমুনার পানি দূষণমুক্ত হওয়ার দাবি করলেও পরিসংখ্যান বলছে, নদীর বিভিন্ন অংশে দূষণের মাত্রা এখনো উদ্বেগজনক।