মঙ্গলবার, 27 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

দুর্নীতির অভিযোগে স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

দুর্নীতির অভিযোগে স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের স্ত্রী বেগোনিয়া গোমেজের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির এক বিচারক। একই সঙ্গে তার পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এ ছাড়া তাকে মাসে দুবার আদালতে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গোমেজের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্তকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী সানচেজ। তার ঘনিষ্ঠজনদের বিরুদ্ধেও একের পর এক তদন্ত চলায় সরকারের ওপর চাপ আরও বাড়ছে।

বিচারক হুয়ান কার্লোস পেইনাদোর অভিযোগ, স্বামীর রাজনৈতিক অবস্থান ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে মাদ্রিদের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের পেশাগত অবস্থান এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন গোমেজ। তার বিরুদ্ধে আত্মসাৎ, প্রভাব খাটানো, ব্যবসায়িক লেনদেনে দুর্নীতি এবং তহবিলের অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

তবে গোমেজ ও প্রধানমন্ত্রী সানচেজ দুজনই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সানচেজের দাবি, তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি মামলাটিকে ‘অশ্লীল প্রহসন’ বলেও অভিহিত করেছেন।

২০২৪ সালে ডানপন্থী রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকা দুর্নীতিবিরোধী সংগঠন ‘মানোস লিম্পিয়াস’ গোমেজের বিরুদ্ধে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ দায়ের করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু হয়। ওই সময় সানচেজ কয়েক দিনের জন্য সরকারি দায়িত্ব থেকে বিরতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবেন কি না, তা নিয়ে ভাবনার কথা জানিয়েছিলেন।

গোমেজের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর নির্দেশের সমালোচনা করেছেন স্পেনের বিচারমন্ত্রী ফেলিক্স বোলানোস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ন্যায়বিচারে বিশ্বাসীদের জন্য এটি একটি ভয়াবহ দিন। তবে শেষ পর্যন্ত সত্যের জয় হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

স্পেনের সংবাদমাধ্যম এল পাইস এক সম্পাদকীয়তে জানিয়েছে, পুরো তদন্তপ্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত কঠোর পদক্ষেপ, গণমাধ্যমের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা এবং নিরপেক্ষতার অভাব দেখা গেছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী সানচেজের ঘনিষ্ঠ মহলেও দুর্নীতির তদন্ত চলছে। তার নেতৃত্বাধীন স্প্যানিশ সোশ্যালিস্ট ওয়ার্কার্স পার্টির (পিএসওই) সদর দপ্তরে সম্প্রতি তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। দলীয় তহবিলের অর্থ অপব্যবহার করা হয়েছে কি না এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি অভিযোগ মোকাবিলায় ওই অর্থ ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।