রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডলের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন এবং এ নিয়ে কথা বলায় বিএনপির নেতাকর্মীদের মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তুলে পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলামের প্রত্যাহারও দাবি করেছেন বিএনপির একদল নেতাকর্মী।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) রাজশাহী মহানগরীর অলোকার মোড়ের একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন রাজশাহী-৫ আসনের ভুক্তভোগী বিএনপি নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, সংসদ সদস্যের কথায় তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা রেকর্ড করেছেন পুঠিয়া থানার ওসি।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন পুঠিয়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার সরকার আল-আমীন, বানেশ্বর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম নবী এবং সাবেক ছাত্রনেতা আহসান হাবিবসহ অন্যরা।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মন্ডল সম্প্রতি পুঠিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পল্লব সেনগুপ্ত ও আওয়ামী লীগকর্মী মাজহারুল ইসলাম মিন্টুকে সংসদে নিয়ে যান। অভিযোগকারীদের দাবি, তার এ কর্মকাণ্ড প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার জন্যও হুমকিস্বরূপ ছিল।
এ ছাড়া এলাকার অধিকাংশ সরকারি পুকুর আওয়ামী লীগের এক অর্থদাতাকে দিয়ে চাষ করানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। একই সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে ‘ফ্যাসিবাদ ও রাজাকার ঘরানার লোকদের’ ডিলার নিয়োগে সহায়তা দেওয়ার অভিযোগও তোলেন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে।
অভিযোগকারীরা জানান, পুঠিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগকর্মী রিশাদ হোসেন কেতাব ডিলারশিপ পেয়েছেন। পুঠিয়া পৌরসভা এলাকায় ডিলারশিপ পেয়েছেন ময়মনসিংহের বাসিন্দা শাহেদ হাসান, যিনি সংসদ সদস্যের নাতিজামাই বলে দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া সংসদ সদস্যের সুপারিশে ভাল্লুকগাছি ইউনিয়নে ডিলারশিপ পেয়েছেন জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত শফিউল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, এলাকার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটিতে সংসদ সদস্যের পরিবারের সদস্য, ফ্যাসিবাদের সহযোগী কিংবা জামায়াতের নেতাকর্মীদের সভাপতি ও সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।
যুবদল নেতা দেলোয়ার সরকার আল-আমীন বলেন, সংসদ সদস্যের বিভিন্ন অনিয়ম ও আওয়ামী লীগপ্রীতি নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের কেউ ফেসবুকে মন্তব্য করলেই তাকে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৩ আগস্ট বিড়ালদহ পশ্চিমপাড়া গ্রামের একটি পারিবারিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারসহ বিএনপির নয় নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। হয়রানি করতেই এ মামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
দেলোয়ার সরকার আরও জানান, গত ১১ অক্টোবর চার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাইবার আইনে মামলা হয়েছে। এসব মামলার পেছনে সংসদ সদস্যের চাপ রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, মামলার বাদী খন্দকার সোহেল মাহমুদ ফ্যাসিবাদের সহযোগী।
সাবেক ছাত্রনেতা আহসান হাবিব বলেন, রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাবিব খান সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মন্ডলের ভাতিজা আজাদ মন্ডলের জামাতা। তার অভিযোগ, হাবিব খান শ্বশুরবাড়িতে বসে সরকার পতনের হুমকি দিচ্ছেন।
বানেশ্বর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম নবী বলেন, নির্বাচনে যারা সংসদ সদস্যের পক্ষে ছিলেন না, তাদেরই হয়রানি করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে এসব অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিএনপির নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সোমবার দুপুরে সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মন্ডলের মোবাইল ফোনে কল করা হলে তার ভাতিজা তানজিম আরিন ফোন রিসিভ করেন। তিনি জানান, সংসদ সদস্য বিশ্রামে আছেন এবং এ মুহূর্তে তাকে পাওয়া যাবে না।