মঙ্গলবার, 27 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্য: আইজিপিকে অপসারণের দাবি এনসিপির

সরকারের অনুমতি পেলে পুলিশ ‘ক্রসফায়ার’ করতে পিছপা হবে না—পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকিরের এমন মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এ বক্তব্যের জন্য তাঁকে দায়িত্ব থেকে অপসারণের দাবি জানিয়েছে দলটি। পাশাপাশি পুলিশ বাহিনীকে বেআইনি চর্চা থেকে মুক্ত করে জুলাই সনদে বর্ণিত পথ অনুসরণ করে অবিলম্বে পুলিশ কমিশন গঠনের আহ্বান জানিয়েছে তারা।

‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্য: আইজিপিকে অপসারণের দাবি এনসিপির
ছবি: সংগৃহীত

সরকারের অনুমতি পেলে পুলিশ ‘ক্রসফায়ার’ করতে পিছপা হবে না—পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকিরের এমন মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এ বক্তব্যের জন্য তাঁকে দায়িত্ব থেকে অপসারণের দাবি জানিয়েছে দলটি। পাশাপাশি পুলিশ বাহিনীকে বেআইনি চর্চা থেকে মুক্ত করে জুলাই সনদে বর্ণিত পথ অনুসরণ করে অবিলম্বে পুলিশ কমিশন গঠনের আহ্বান জানিয়েছে তারা।

সোমবার রাতে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এনসিপি জানায়, তারা অবিলম্বে আইজিপিকে অপসারণের দাবি জানাচ্ছে। সরকারের কোনো বেআইনি নির্দেশ পালন করতে পুলিশ প্রশাসন বাধ্য নয়। বাংলাদেশের পেনাল কোড ও পুলিশ আইনে এ বিষয়ে স্পষ্ট বিধান রয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে দলটি।

সোমবার দুপুরে পুরান ঢাকায় ‘কমিউনিটি ইসলামিক ব্যাংক সিস্টেম’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইজিপি আলী হোসেন ফকির বলেন, “আমাদের দায়িত্ব, আইন-সংবিধান অনুযায়ী যখন যেখানে যা প্রয়োগ করা দরকার, সেইটাই আমরা করব। যেখানে ক্রসফায়ার যদি প্রয়োজন হয়, সরকার যদি অ্যালাও করে, আমরা সেইটা করব।”

আইজিপির এ বক্তব্যের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মানবাধিকার সংগঠন তাঁর সমালোচনা করে। তবে রাতে পুলিশ সদর দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আইন প্রয়োগে কঠোরতার বিষয়টি বোঝাতে আইজিপি ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি আক্ষরিক অর্থে ব্যবহার করেছেন।

আইজিপির বক্তব্যের সমালোচনা করে এনসিপি বলেছে, “পুলিশ প্রধানের এ ধরনের বক্তব্য কেবল আইনের শাসন ও সংবিধানের পরিপন্থিই নয়; বরং এটি মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মত ঘৃণ্য অপরাধকে পুনরায় বৈধতা দেওয়ার বিপজ্জনক পাঁয়তারা।

“এনসিপি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চায়, সরকারের অনুমোদন বা অনুমতি দিয়েও কখনো কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়া যায় না।”

দলটি আরও বলেছে, বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপি তাদের রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা রূপরেখার ১৪ নম্বর দফায় গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধের অঙ্গীকার করেছিল। কিন্তু তাদের সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া আইজিপির এমন বক্তব্য ওই অঙ্গীকারের সঙ্গে দ্বিচারিতার শামিল। এনসিপির ভাষায়, এটি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে অযোগ্য ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ারও একটি স্পষ্ট নজির।

বিগত ‘স্বৈরাচারের আমল’ থেকে শিক্ষা না নিয়ে পুলিশের শীর্ষ পর্যায় থেকে আবারও এ ধরনের উসকানিমূলক ও বেআইনি বক্তব্য দেওয়া চরম ধৃষ্টতাপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছে দলটি।

এনসিপি বলেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থতা আড়াল করতে ‘ক্রসফায়ার’-এর ভয় দেখানো একধরনের প্রাতিষ্ঠানিক দেউলিয়াত্ব। এ ধরনের বক্তব্য মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের বেআইনিভাবে বলপ্রয়োগে উৎসাহিত করতে পারে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের নতুন পথ খুলে দিতে পারে বলে মনে করে দলটি।