বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, এরশাদ ও শেখ হাসিনার শাসনামলে সাংবাদিকদের অর্থের বিনিময়ে কিনে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। সাংবাদিক গিয়াস কামাল চৌধুরীর মতো ব্যক্তিত্বদের অবদানে দেশে বারবার গণতন্ত্র ফিরে এসেছে। দেশের ভাবমূর্তি রক্ষায় গণমাধ্যমকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বরেণ্য সাংবাদিক গিয়াস কামাল চৌধুরীর স্মরণসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
রিজভী বলেন, সাংবাদিক হিসেবে গিয়াস কামাল চৌধুরী নিষ্ঠার সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর মতো দৃঢ়চেতা সাংবাদিকরা বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তিনি সব সময় সজাগ ছিলেন। সাংবাদিক গিয়াস কামাল চৌধুরী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন।
এ সময় গিয়াস কামাল চৌধুরীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।
ইতালিতে বাংলাদেশিদের সুনাম প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ কাজের সন্ধানে ইতালিতে যান। দারিদ্র্য, রাজনৈতিক সংকটসহ নানা কারণে মানুষ নিজ দেশ ছেড়ে সেখানে পাড়ি জমান। তবে ইতালিতে চুরির ঘটনায় দেশটির নাগরিকদের পরিবর্তে বিভিন্ন দেশ থেকে যাওয়া কিছু অভিবাসীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এ বিষয়ে তিনি কয়েকটি দেশের নাম উল্লেখ করতে চাননি।
তিনি বলেন, ইতালিতে অনেক বাংলাদেশি ও বিদেশি পর্যটকের সঙ্গে কথা বলেও বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে এ ধরনের চুরির অভিযোগ শোনেননি। নানা সমস্যার মধ্যেও বাংলাদেশিদের কিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে, যা গর্ব করার মতো।
রিজভী আরও বলেন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি শ্রমিকদের সুনাম রয়েছে। ইউরোপীয়দের অনেকে বলেছেন, বাংলাদেশিদের মতো ভালো শ্রমিক পাওয়া কঠিন।
তিনি জানান, রোমের কেন্দ্রীয় স্টেশনের আশপাশে আগে অন্য দেশের নাগরিকদের অনেক দোকানপাট থাকলেও বর্তমানে সেখানে বাংলাদেশিদের ব্যবসায়িক উপস্থিতি বাড়ছে।
স্মরণসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) চেয়ারম্যান কবি আব্দুল হাই সিকদারসহ অন্যরা।