মঙ্গলবার, 27 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে জল্পনা, দিল্লিতে বাংলাদেশের গোয়েন্দাপ্রধান

বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবু মোহাম্মদ সরোয়ার ফরিদের আকস্মিক দিল্লি সফর ঘিরে ভারত ও বাংলাদেশের নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টিও এই সফরের প্রেক্ষাপটে গুরুত্ব পাচ্ছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।

হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে জল্পনা, দিল্লিতে বাংলাদেশের গোয়েন্দাপ্রধান

বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবু মোহাম্মদ সরোয়ার ফরিদের আকস্মিক দিল্লি সফর ঘিরে ভারত ও বাংলাদেশের নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টিও এই সফরের প্রেক্ষাপটে গুরুত্ব পাচ্ছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।

রোববার (২৫ অক্টোবর) ঢাকা থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হন বাংলাদেশের এই শীর্ষ সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা। তবে তাঁর সফরের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বাংলাদেশ ও ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। এ কারণে সফরটি ঘিরে কূটনৈতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে।

দিল্লির পর্যবেক্ষকদের ধারণা, দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের পাশাপাশি শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে। তবে এ সফরে হাসিনাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে কোনো আলোচনা হবে কি না, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

এমন এক সময়ে বাংলাদেশের গোয়েন্দাপ্রধান দিল্লি সফরে গেলেন, যখন হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের টানাপোড়েন কূটনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের জন্য ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানিয়েছে।

অন্যদিকে ভারত জানিয়েছে, বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান অনুসারে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানায়নি দেশটি।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তিনি বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। এদিকে বাংলাদেশের আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলো বিষয়টিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। প্রত্যর্পণ নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির অবস্থানের পার্থক্য দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রেও বড় বাধা হয়ে রয়েছে।

ভারতের কাছে বাংলাদেশের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা শুধু রাজনৈতিক সম্পর্কের বিষয় নয়। দুই দেশের দীর্ঘ সীমান্ত, সীমান্তপারের অপরাধ, জঙ্গি তৎপরতা, অস্ত্র ও মাদক পাচার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো বিষয়েও নিয়মিত যোগাযোগ প্রয়োজন। বাংলাদেশের গোয়েন্দাপ্রধানের সফরে এসব বিষয় আলোচনায় আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বৈঠকের নির্দিষ্ট কর্মসূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

এ ছাড়া মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও রোহিঙ্গা সংকটও দুই দেশের নিরাপত্তা আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। মিয়ানমারের পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চল এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তার ওপর পড়ছে। সীমান্তপারের অনুপ্রবেশ, মানবপাচার ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা সম্পর্কে তথ্য বিনিময় উভয় দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।

এর আগে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের কথিত বাংলাদেশ সফর নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা হয়েছিল। তবে ওই সফর সম্পর্কে ভারত ও বাংলাদেশের সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নিশ্চিত বিবৃতি দেয়নি। ফলে দুই দেশের নিরাপত্তা পর্যায়ে সাম্প্রতিক যোগাযোগ নিয়ে জল্পনা থাকলেও এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রকাশ্য তথ্য এখনো সীমিত।

বর্তমানে ভারতের সামনে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করার পাশাপাশি হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে ঢাকার উদ্বেগ কীভাবে মোকাবিলা করা যায়। অন্যদিকে হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য রাজনৈতিক ও বিচারিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করা সহজ হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে সরোয়ার ফরিদের দিল্লি সফরকে শুধু একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তার বিদেশ সফর হিসেবে দেখা হচ্ছে না; ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতিতেও এর তাৎপর্য রয়েছে। তবে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কোনো সমঝোতা হয়েছে কিংবা এ বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সূচি চূড়ান্ত হয়েছে—এমন দাবি করার মতো নিশ্চিত তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।