বুধবার, 21 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

হুতি হামলার পর সৌদিতে ব্যক্তিগত বিমানের ভাড়া বেড়েছে ৫০ শতাংশের বেশি

হুতি বিদ্রোহীদের হামলার পর সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় ব্যক্তিগত জেটের চাহিদা বেড়েছে। এর ফলে দেশটিতে ব্যক্তিগত বিমান ভাড়া ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বাণিজ্যিক ফ্লাইট বাতিল এবং যুদ্ধঝুঁকির বিমা ব্যয় বৃদ্ধির মধ্যে সৌদি আরব ছাড়তে আগ্রহী ধনী যাত্রী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা ব্যক্তিগত বিমানের দিকে ঝুঁকছেন বলে জানিয়েছেন বিমান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ও দালালেরা।

হুতি হামলার পর সৌদিতে ব্যক্তিগত বিমানের ভাড়া বেড়েছে ৫০ শতাংশের বেশি

হুতি বিদ্রোহীদের হামলার পর সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় ব্যক্তিগত জেটের চাহিদা বেড়েছে। এর ফলে দেশটিতে ব্যক্তিগত বিমান ভাড়া ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বাণিজ্যিক ফ্লাইট বাতিল এবং যুদ্ধঝুঁকির বিমা ব্যয় বৃদ্ধির মধ্যে সৌদি আরব ছাড়তে আগ্রহী ধনী যাত্রী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা ব্যক্তিগত বিমানের দিকে ঝুঁকছেন বলে জানিয়েছেন বিমান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ও দালালেরা।

গত ১০ অক্টোবর থেকে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রয়েছে। হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক প্রাণঘাতী হামলার পর বিমানবন্দরটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, গত রোববার বিমানবন্দরটি আবার চালু হবে। তবে পরে এ বিষয়ে আর কোনো হালনাগাদ তথ্য দেওয়া হয়নি। বিমান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ধারণা, বিমানবন্দর চালু হলেও স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে কিছুটা সময় লাগবে।

বিমান চলাচল বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান সিরিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, হামলা শুরুর পর সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল—এমন ৫ হাজার ৫০০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। জার্মানির লুফথানসা ও ইতালির আইটিএ এয়ারওয়েজ সৌদি আরবে তাদের ফ্লাইট স্থগিত করেছে। এর আগে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ ও এয়ার ফ্রান্সও দেশটিতে ফ্লাইট চলাচল পিছিয়ে দেয়।

ব্যক্তিগত বিমানের প্রাপ্যতা কমে যাওয়ায় ভাড়া বেড়েছে বলে জানিয়েছেন টিকিট বিক্রির সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান ও দালালেরা। চলতি মাসে সহিংসতা শুরুর পর কয়েকটি বিমান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান সৌদি আরবে সেবা বন্ধ করে দেয়। গত সপ্তাহে রিয়াদের উত্তরে আল-কাসিম বিমানবন্দর থেকে সুইজারল্যান্ডের জেনেভাগামী একটি ব্যক্তিগত ফ্লাইটের ভাড়া ছিল ৯৪ হাজার ইউরো। ১৪ জন যাত্রী বহনে সক্ষম বোম্বার্ডিয়ার গ্লোবাল ৬০০০ মডেলের বিমানটি ওই যাত্রায় ব্যবহার করা হয়।

বেসরকারি বিমান পরিবহন প্রতিষ্ঠান লাক্স জেটসের আলেকজান্ডার গ্রাহাম জানান, রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দর বন্ধ হওয়ার আগে একই ধরনের ফ্লাইটের ভাড়া ছিল প্রায় ৬০ হাজার ইউরো। তাঁর ভাষ্য, বিমানের সংখ্যা কমে যাওয়ায় ভাড়া বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতেও যারা ফ্লাইট পরিচালনা করতে রাজি হচ্ছেন, তাদের কাছ থেকে বেশি অর্থ দিতে হচ্ছে যাত্রীদের।

ব্যক্তিগত জেট পরিবহন খাতের চারজন নির্বাহীর তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদ ছাড়তে আগ্রহী ব্যক্তিরা এখন শহরটি থেকে ২০০ মাইলেরও বেশি দূরে অবস্থিত আল-কাসিম বিমানবন্দর ব্যবহার করছেন। অন্যদিকে, ব্যক্তিগত বিমান ভাড়া করার সামর্থ্য নেই এমন কিছু যাত্রী বাণিজ্যিক ফ্লাইট ধরতে প্রতিবেশী বাহরাইন বা কাতারে চলে গেছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠান ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের স্থানীয় বিমান সংস্থাগুলো আল-কাসিম থেকে দুবাই, কায়রো ও বাহরাইনসহ বিভিন্ন গন্তব্যে নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনা করছে। সংশ্লিষ্ট চারজনের ভাষ্য, কয়েকটি পশ্চিমা প্রতিষ্ঠান রিয়াদে অবস্থানরত শীর্ষ কর্মকর্তাদের দুবাই কিংবা নিজ নিজ দেশের বাজারে সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা যাচাই করছে। এ জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নির্বাহীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

তবে চলতি বছরের শুরুর দিকে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর যে ব্যাপকভাবে মানুষ সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল, এবার এখনো তেমন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। ওই সময় কয়েক দিনের মধ্যে হাজার হাজার মানুষ দুবাই ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। ইরানের হামলার সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে প্রায় ৩ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছিল, যা সৌদি আরবের ওপর এখন পর্যন্ত হওয়া হামলার সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের তুলনায় সৌদি আরবে পশ্চিমা প্রবাসীর সংখ্যাও কম। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাত এ অঞ্চলের অন্যতম প্রধান আর্থিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র।

ব্যক্তিগত বিমান বুকিংয়ের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এন্টারজেটসের প্রতিষ্ঠাতা চার্লস রবিনসনের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব থেকে ইউরোপগামী ব্যক্তিগত জেটের ভাড়া সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত উঠেছে। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতগামী ফ্লাইটের ভাড়া ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার ডলারের মধ্যে রয়েছে।

রবিনসন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত বিমানবন্দরগুলোতে যাতায়াত করতে আগের তুলনায় কমসংখ্যক বিমান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান রাজি হচ্ছে। যারা এখনো এ বাজারে রয়েছে, তারা পরিস্থিতি সম্পর্কে ভালোভাবেই অবগত। চাহিদা বেশি এবং প্রতিযোগী কম থাকায় কিছু প্রতিষ্ঠান নিজেদের মতো করে অতিরিক্ত ভাড়া নির্ধারণ করছে।

তাঁর ভাষ্য, ব্যক্তিগত বিমানের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক গ্রাহক বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ কোনো স্থানে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। সেখান থেকে বাণিজ্যিক ফ্লাইটে ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। গ্রাহাম জানান, যাত্রীদের ইউরোপে নিয়ে যেতে কিছু বিমান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান খালি বিমানও সৌদি আরবে পাঠাচ্ছে।

যুদ্ধের ঝুঁকি ও হামলার খবরের মধ্যেও বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য এবং এ অঞ্চলের অভ্যন্তরে বিমান চলাচলের চাহিদা শক্তিশালী রয়েছে বলে জানিয়েছেন এডওয়ার্ডস। তাঁর মতে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলাগুলো বৃহত্তর অঞ্চলের বিমান চলাচলে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে বলে মনে হচ্ছে না।

এর উদাহরণ হিসেবে এডওয়ার্ডস জানান, সম্প্রতি এক নতুন গ্রাহক তাঁর পরিবার নিয়ে তুরস্কের আনতালিয়া থেকে দুবাই গিয়েছেন এবং সেখানে এক সপ্তাহের ছুটি কাটিয়েছেন।