বুধবার, 21 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

ইয়েমেন সংকটে সৌদির শত বছরের ভুল নীতি, শক্তিশালী হয়েছে হুতিরা

ইয়েমেনকে দুর্বল ও অস্থিতিশীল রাখার দীর্ঘদিনের নীতি শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের জন্যই বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও উপজাতীয় গোষ্ঠীর মধ্যকার বিভেদকে কাজে লাগিয়ে প্রভাব বিস্তারের যে কৌশল রিয়াদ অনুসরণ করেছে, তার ফলে ইয়েমেনে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে হুতি আন্দোলন। বর্তমানে এই গোষ্ঠীই সৌদি আরবের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইয়েমেন সংকটে সৌদির শত বছরের ভুল নীতি, শক্তিশালী হয়েছে হুতিরা

ইয়েমেনকে দুর্বল ও অস্থিতিশীল রাখার দীর্ঘদিনের নীতি শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের জন্যই বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও উপজাতীয় গোষ্ঠীর মধ্যকার বিভেদকে কাজে লাগিয়ে প্রভাব বিস্তারের যে কৌশল রিয়াদ অনুসরণ করেছে, তার ফলে ইয়েমেনে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে হুতি আন্দোলন। বর্তমানে এই গোষ্ঠীই সৌদি আরবের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সম্প্রতি সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হুতিদের হামলা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে সৌদি রাজপরিবারের জন্য এই সংঘাত পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত নয়। কারণ, ইরানের সমর্থনপুষ্ট এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে সৌদি আরবের বিরোধের শিকড় প্রায় এক শতাব্দী পুরোনো। দক্ষিণ সীমান্তের প্রতিবেশী ইয়েমেনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতারই নতুন রূপ বর্তমান সংকট।

ইয়েমেনকে দুর্বল রাষ্ট্র হিসেবে ধরে রাখতে কয়েক দশক ধরে দেশটির বিভিন্ন বিরোধী গোষ্ঠীকে সমর্থন দিয়ে এসেছে সৌদি আরব। কিন্তু এই কৌশল শেষ পর্যন্ত একটি শক্তিশালী ও সংগঠিত প্রতিপক্ষ তৈরি করেছে। সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে কিংবা মিত্র বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে সাময়িকভাবে সংঘাত নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলেও, তাতে স্থায়ী সমাধান আসবে না। এজন্য ইয়েমেন নিয়ে সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন।

সীমান্ত বিরোধে জমেছে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ

সৌদি আরব ও ইয়েমেনের সম্পর্কের অন্যতম প্রধান বিরোধের জায়গা তাদের সীমান্ত। ১৯৩৪ সালের সৌদি-ইয়েমেন যুদ্ধের পর তায়েফ চুক্তির মাধ্যমে ইয়েমেনের আসীর, নাজরান ও জিজান প্রদেশ সৌদি আরবের নিয়ন্ত্রণে আসে। এসব অঞ্চলের বাসিন্দারা কাগজে-কলমে সৌদি নাগরিক হলেও দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছেন। আসীর অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু উন্নয়নমূলক কাজ হলেও ঐতিহাসিকভাবে এই তিন অঞ্চলকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

এ কারণে এসব এলাকার মানুষের মধ্যে ধর্মীয় উগ্রবাদ ও চরমপন্থার প্রভাব বিস্তারের ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। সংস্কৃতি, ভাষা ও ধর্মের দিক থেকে অঞ্চলগুলোর মানুষের সঙ্গে ইয়েমেনিদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। সীমান্তের দুই পাশে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে আত্মীয়তা ও পারিবারিক যোগাযোগও বজায় আছে।

দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যকার প্রায় ৮০০ মাইল সীমান্তের বড় অংশ ছিল তুলনামূলকভাবে অরক্ষিত। ফলে মানুষ, অস্ত্র ও বিভিন্ন চোরাচালানি পণ্য সহজেই সীমান্তের দুই পাশে যাতায়াত করতে পারত।

শক্তিশালী ইয়েমেনকে ভয় পেত সৌদি আরব

সৌদি আরবের জন্য উদ্বেগের কারণ শুধু আসীর, নাজরান ও জিজান অঞ্চল ছিল না। ইয়েমেনের ভেতরে বিভিন্ন সময়ে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক আন্দোলনও দেশটির নিরাপত্তা হিসাবের অংশ হয়ে উঠেছিল। সানায় ক্ষমতায় আসা বিভিন্ন শাসক ও রাজনৈতিক শক্তি জাতীয়তাবাদী অবস্থান তুলে ধরতে সৌদি নিয়ন্ত্রণে থাকা তিনটি অঞ্চল ইয়েমেনকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। তবে এসব দাবি বাস্তবায়নের মতো সামরিক শক্তি ইয়েমেনের ছিল না।

সৌদি নেতৃত্বের বড় আশঙ্কা ছিল, সীমান্তের পাশে একটি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ ইয়েমেন গড়ে উঠলে তা দেশটির নিজস্ব নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। এ কারণে ইয়েমেনের রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও উপজাতীয় বিভেদকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন বিরোধী গোষ্ঠীকে আর্থিক ও সামরিক সহায়তা দেওয়ার কৌশল নেয় রিয়াদ। এর ফলে দেশটির অভ্যন্তরীণ বিভাজন দীর্ঘস্থায়ী হয়।

১৯৬২ সালে উত্তর ইয়েমেনে ইমামতন্ত্রের পতন ঘটে। মিসরের সহায়তায় প্রজাতান্ত্রিক সরকার সানার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর সৌদি আরব নতুন সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করা উত্তরাঞ্চলের উপজাতীয় জোটকে সহায়তা দিতে শুরু করে। বর্তমানে এই উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর একটি অংশ হুতি আন্দোলনের সমর্থক হিসেবে পরিচিত।

পরবর্তী সময়ে ১৯৬৮ সালে দক্ষিণ ইয়েমেন ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীন হয়ে আরব বিশ্বের প্রথম ও একমাত্র আরব কমিউনিস্ট রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। তখন সৌদি আরব উত্তরাঞ্চলের উপজাতীয় শক্তিগুলোর প্রতি সমর্থন থেকে সরে এসে সানার রক্ষণশীল রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দেয়। ওই গোষ্ঠীগুলো তত দিনে মিসরের সমর্থন হারিয়েছিল।

সৌদি আরবের পছন্দ ছিল এমন একটি বিভক্ত ইয়েমেন, যার রাজধানী সানার সরকার দেশ পরিচালনার জন্য রিয়াদের আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল থাকবে। ১৯৭৪ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত উত্তর ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম আল-হামদি উত্তর ও দক্ষিণ ইয়েমেনকে একীভূত করার উদ্যোগ নেন। পরে তিনি নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে সৌদি এজেন্টদের হাত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

দুই ইয়েমেনের একত্রীকরণে নতুন উদ্বেগ

১৯৯০ সালে উত্তর ও দক্ষিণ ইয়েমেন একত্র হওয়ার পর সৌদি আরবের উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী প্রতিবেশী রাষ্ট্রের উত্থানকে নিজেদের জন্য সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে দেখতে শুরু করে রিয়াদ।

১৯৯০ সালের আগস্টে ইরাক কুয়েত আক্রমণ করলে ইয়েমেনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহ প্রকাশ্যে ইরাকি প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে সমর্থন জানান। এর প্রতিক্রিয়ায় সৌদি আরব থেকে ১০ লাখের বেশি ইয়েমেনি শ্রমিককে একযোগে বহিষ্কার করা হয়। এতে ইয়েমেন ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে, যার প্রভাব থেকে দেশটি এখনো পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।

এরপরও ঐক্যবদ্ধ ইয়েমেন নিয়ে সৌদি আরবের উদ্বেগ কমেনি। ১৯৯৪ সালে সৌদির পরোক্ষ সমর্থনে দক্ষিণ ইয়েমেনে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন শুরু হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে তা প্রেসিডেন্ট সালেহের সরকার ও দক্ষিণ ইয়েমেনের সমাজতন্ত্রীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়।

দক্ষিণের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের পরাজিত করতে সালেহ সশস্ত্র চরমপন্থী ও ইসলামপন্থীদের ব্যবহার করেন। কিন্তু এর ফলে ইয়েমেনের বিভিন্ন উপজাতীয় ও ধর্মীয় গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধ আরও গভীর হয়। দীর্ঘমেয়াদে এই বিভাজন হুতি আন্দোলন বা আনসারুল্লাহর উত্থানের পথ তৈরি করতে সহায়তা করে।

সীমান্ত সংঘাত থেকে হুতিদের উত্থান

পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে ২০০৩ সালে সৌদি আরব ইয়েমেনের সঙ্গে উন্মুক্ত সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তাপ্রাচীর নির্মাণ শুরু করে। এর পরের বছর, ২০০৪ সালে, ইয়েমেন সরকার ও উত্তরাঞ্চলে গড়ে ওঠা নতুন বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতিদের মধ্যে প্রথম দফার সংঘাত শুরু হয়।

২০০৯ সালে যুদ্ধের পঞ্চম পর্যায়ে সংঘাত সৌদি সীমান্ত অতিক্রম করার আশঙ্কা দেখা দিলে সৌদি সামরিক বাহিনী সরাসরি হস্তক্ষেপ করে। ওই সময় হুতি যোদ্ধাদের সঙ্গে সংঘর্ষে সৌদি বাহিনী প্রথমবারের মতো সামরিক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে।

২০১০ সালে সানার সরকার ও হুতিদের মধ্যে সাময়িক শান্তিচুক্তি হলেও প্রেসিডেন্ট সালেহের ওপর সৌদি আরবের আস্থা কমে যায়। এর পর ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে আরব বসন্তের গণবিক্ষোভের মুখে সালেহ ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন।

পরবর্তী সময়ে সৌদি আরব হুতিদের মোকাবিলায় সালাফি রাজনীতিবিদ ও সামরিক কমান্ডারদের ওপর নির্ভর করতে শুরু করে। এদের মধ্যে আলী মহসিন আল-আহমারও ছিলেন। সৌদি নেতৃত্ব তাদের হুতি আন্দোলনের বিকল্প ধর্মীয় ও রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল।

কিন্তু কূটনৈতিক উদ্যোগের দুর্বলতা, সরকারের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়া এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে সৌদি-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। অন্যদিকে, হুতিদের সুসংগঠিত সাংগঠনিক কাঠামো ও জনসমর্থন তাদের শক্তি বাড়াতে সহায়তা করে।

ফলে সৌদি আরব যে দুর্বল প্রতিবেশী রাষ্ট্র চেয়েছিল, তার পরিবর্তে ইয়েমেনে গড়ে ওঠে কর্তৃত্ববাদী ও আক্রমণাত্মক একটি সামরিক শক্তি। হুতিদের কার্যক্রম এখন শুধু সৌদি আরবের নিরাপত্তার জন্য নয়, লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে।

বর্তমানে হুতিদের প্রতি ইরানের সমর্থন সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের নীতির অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ বিভেদকে কাজে লাগিয়ে বিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে শক্তিশালী করার যে কৌশল সৌদি আরব নিয়েছিল, তা ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) জন্যও প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি করেছে।

সামরিক শক্তি নয়, নীতির পরিবর্তনই সমাধান

হুতি সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে হলে সৌদি আরবকে ইয়েমেন সম্পর্কে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। একেক সময়ে একেক বিরোধী গোষ্ঠীকে অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে শক্তিশালী করার কৌশল দীর্ঘমেয়াদে বিপজ্জনক। কারণ, আজ যে গোষ্ঠী বিরোধী শক্তি হিসেবে কাজ করছে, ভবিষ্যতে তারাই ক্ষমতায় গিয়ে সৌদি আরবের স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারে। ইতিহাসে এমন পরিণতির নজির রয়েছে।

কৃত্রিমভাবে গড়ে তোলা প্রেসিডেনশিয়াল কাউন্সিল কিংবা বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে অস্ত্র সরবরাহ করে সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। বিশেষ করে হুতিরা যখন বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে সৌদি ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জন করেছে, তখন শুধু সামরিক অভিযান দিয়ে তাদের মোকাবিলা করা কঠিন।

যুদ্ধের মাধ্যমে সাময়িক যুদ্ধবিরতি অর্জন করা গেলেও সেই সময়কে কীভাবে কাজে লাগানো হবে, সেটিই হবে সৌদি আরবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দুর্বল হুতি-বিরোধী সামরিক জোটের ওপর নির্ভর না করে ইয়েমেনের বাকি অংশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিকল্প তৈরি করা প্রয়োজন।

এ ক্ষেত্রে ইয়েমেনে বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিনিয়োগ, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্যপদ দেওয়ার উদ্যোগ কিংবা বিতর্কিত সীমান্ত অঞ্চলগুলোর বিষয়ে সম্মানজনক রাজনৈতিক সমাধান বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে।

বিভক্ত ও অস্থিতিশীল ইয়েমেনকে নিজেদের জন্য হুমকি হিসেবে দেখার পরিবর্তে সৌদি আরবের উচিত সমৃদ্ধ, স্থিতিশীল ও কার্যকর একটি প্রতিবেশী রাষ্ট্র গড়ে উঠতে সহায়তা করা। এমন ইয়েমেন নিজের দায়িত্ব পালন করতে পারবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব মোকাবিলায় সৌদি আরবের প্রকৃত মিত্র হয়ে উঠতে পারে।