অস্ট্রেলিয়ার স্বতন্ত্র আইনপ্রণেতা হেলেন হেইনসের দুই পা কেটে ফেলতে হয়েছে। সোমবার নিজের কার্যালয়ের কাছে গাড়িচাপা দিয়ে তাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন তার স্বামী ফিল হেইনস। পুলিশ ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হামলা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
হেলেন বর্তমানে মেলবোর্নের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।
সোমবার ভিক্টোরিয়া রাজ্যের রাজধানী মেলবোর্ন থেকে ২০০ কিলোমিটারের বেশি উত্তর-পূর্বে ওয়াংগারাট্টা শহরে নিজের কার্যালয়ের কাছে গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন ৬৫ বছর বয়সী এই আইনপ্রণেতা।
বুধবার হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ফিল হেইনস জানান, অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকদের তার স্ত্রীর দুই পা-ই কেটে ফেলতে হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এত কিছুর মধ্যেও সবচেয়ে বড় সুখবর হলো, হেলেন বেঁচে আছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। আমাদের পরিবারের কাছে এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
ফিল আরও বলেন, ‘পরিবার হিসেবে হেলেনের যে দুটি বিষয় আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো তার হৃদয় ও মন। তার হৃদয় অনেক বড়। তিনি অত্যন্ত সহানুভূতিশীল, যত্নশীল ও ভালোবাসাপূর্ণ একজন মানুষ।’
পুলিশ জানিয়েছে, হেলেনের ওপর পরিকল্পিত হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্রেন্ডান নুজেন্টকে বুধবার আদালতে হাজির করা হয়েছে।
৪৩ বছর বয়সী নুজেন্টের বিরুদ্ধে বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালিয়ে গুরুতর আহত করা, ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত করা এবং একজন সরকারি কর্মকর্তার ক্ষতিসাধনের অভিযোগ আনা হয়েছে। শেষের অভিযোগটি অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় আইনের আওতাভুক্ত অপরাধ, যার সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছরের কারাদণ্ড।
আদালতের নথি অনুযায়ী, নুজেন্টের বিরুদ্ধে গাঁজার গাছ চাষ ও মাদক রাখার অভিযোগও রয়েছে।
ওয়াংগারাট্টার একটি আদালতে হাজির হয়ে নুজেন্ট জামিনের আবেদন করেননি। আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
এই হামলার ঘটনায় অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দেশটিতে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা বিরল হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে হুমকি ও হয়রানি বাড়ছে বলে পুলিশের নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
তবে হেলেনের ওপর হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য এখনো জানা যায়নি। তদন্ত চলমান থাকায় এ বিষয়ে কোনো অনুমান করতে রাজি হয়নি কর্তৃপক্ষ।
বুধবার পুলিশ জানিয়েছে, হামলার পেছনে সম্ভাব্য সব ধরনের সূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর মধ্যে অভিযুক্তের উগ্র সরকারবিরোধী মনোভাব ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
ভিক্টোরিয়া পুলিশের কমিশনার মাইক বুশ সাংবাদিকদের বলেন, ‘অন্য সবার মতো আমরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখছি। প্রত্যক্ষদর্শী, বন্ধু ও সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলছি।’
মাইক বুশ আরও জানান, অভিযুক্তের বিষয়ে আগে থেকে পুলিশের কাছে কোনো গোয়েন্দা তথ্য ছিল না। হামলার আগে তিনি তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি তৈরি করতে পারেন, এমন ইঙ্গিতও পাওয়া যায়নি।