ভারতের দিল্লিতে বিক্ষোভের নির্ধারিত স্থান হিসেবে যন্তর মন্তরের স্বীকৃতি বাতিলের পর সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করায় ককক্রোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দুই শীর্ষ নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে ভর্ৎসনা করেছেন দিল্লি হাইকোর্ট। বুধবার (২১ অক্টোবর) শুনানিতে আদালত বলেন, ব্যারিকেড স্থাপনেরও নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য রয়েছে। এদিকে, বিচার বিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানোর আদেশ চ্যালেঞ্জ করে করা আবেদন গ্রহণে আদালত অস্বীকৃতি জানালে তা প্রত্যাহার করে নেন দুই নেতা।
গত ১৪ অক্টোবর থেকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকা। অভিযোগ, যন্তর মন্তরের তালাবদ্ধ ফটক টপকে সেখানে প্রবেশ করেছিলেন তারা। এর আগে জুন ও জুলাই মাসে ওই স্থানে তাদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই বিক্ষোভে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকেও অংশ নিতে দেখা যায়। ওই বিক্ষোভের জেরে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
চলতি মাসের শুরুতে যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের নির্ধারিত স্থান হিসেবে দেওয়া স্বীকৃতি বাতিল করা হয়। বুধবারের শুনানিতে দুই নেতার আইনজীবী অভীক চিমনিকে উদ্দেশ করে আদালত বলেন, ব্যারিকেড একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে স্থাপন করা হয়। ব্যারিকেড ভেঙে প্রবেশ করলে সেখানে আরও ১০ থেকে ২০ জনের ঢুকে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
অন্যান্য দেশে অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতার ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে আদালত বলেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের দাবি থাকলেও পুলিশের অনুমতি নেওয়া প্রয়োজন। এর মাধ্যমে অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিদের বিক্ষোভে প্রবেশ করে পরিস্থিতি নষ্ট করার আশঙ্কা এড়ানো সম্ভব।
শুনানিতে ফ্রান্সে চলমান সহিংস বিক্ষোভের প্রসঙ্গও উঠে আসে। এ সময় আদালত প্রশ্ন করেন, অনুমতি ছাড়া ব্যারিকেড ভেঙে প্রবেশের পর বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ চ্যালেঞ্জ করার আইনি ভিত্তি কী।
এর আগে ১৯ অক্টোবর দিল্লির মন্দির মার্গ থানার বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দুই নেতার বিচার বিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ আরও দুই দিন বাড়ানোর আদেশ দেন। জনশান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের নির্ধারিত স্থান হিসেবে দেওয়া স্বীকৃতি বাতিলের পরও সেখানে বিক্ষোভের আহ্বান জানিয়ে দুই নেতা আইনকে অসম্মান করেছেন। তাদের মুক্তি জনশৃঙ্খলার জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি তৈরি করতে পারে বলে দাবি করেছিল দিল্লি পুলিশ।
বুধবারের শুনানিতে জামিনের মুচলেকা ভঙ্গের অভিযোগে আইনি প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে হাইকোর্ট। আদালত উল্লেখ করেন, ১১ অক্টোবর দুই নেতা জামিনের মুচলেকা জমা দিয়েছিলেন। একই দিন যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের নির্ধারিত স্থান হিসেবে দেওয়া স্বীকৃতি বাতিল করা হয়। এরপর তাদের আবারও গ্রেফতার করা হয়।
ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) আওতায় জামিনের মুচলেকা ভঙ্গের ক্ষেত্রে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি কেন, তা জানতে চান আদালত।
এর আগে ১০ অক্টোবর দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ থেকে সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে আটক করা হয়। বিএনএসএসের ১২৬ ও ১৭০ ধারায় তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। পরে দুজনই ৫০ হাজার রুপির মুচলেকা জমা দেন।
এদিকে, বুধবারের শুনানিতে দুই নেতার আইনজীবী দাবি করেন, তাদের হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানোর পক্ষে ভবিষ্যতে তাৎক্ষণিক হুমকি তৈরির যে আশঙ্কা দেখানো হয়েছে, সে বিষয়ে দিল্লি পুলিশ কোনো তথ্য বা প্রমাণ উপস্থাপন করেনি।
যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের নির্ধারিত স্থান হিসেবে দেওয়া স্বীকৃতি বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ও দিল্লি হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে।