বুধবার, 21 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

ইরানের সামরিক প্রস্তুতি ঘিরে হামলার শঙ্কায় ইসরাইল

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ইরান সামরিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধার ও বাড়ানোর চেষ্টা করছে কি না, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ইসরাইল। ইরান সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করলে দেশটিতে নতুন করে হামলা চালানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিতে পারে ইসরাইল। এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন দেশটির নিরাপত্তা কর্মকর্তারা।

ইরানের সামরিক প্রস্তুতি ঘিরে হামলার শঙ্কায় ইসরাইল

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ইরান সামরিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধার ও বাড়ানোর চেষ্টা করছে কি না, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ইসরাইল। ইরান সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করলে দেশটিতে নতুন করে হামলা চালানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিতে পারে ইসরাইল। এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন দেশটির নিরাপত্তা কর্মকর্তারা।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে আপাতত নতুন কোনো সামরিক সংঘাতে জড়াতে চাইবেন না বলে ধারণা করা হচ্ছিল। তবে পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। সম্প্রতি ইসরাইলের নিরাপত্তাবিষয়ক বৈঠকে আলোচনার বরাতে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’-এ ক্ষয়ক্ষতির পর ইরান কীভাবে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে, সে বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য পর্যালোচনা করেছে ইসরাইল।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের নতুন করে সামরিক প্রস্তুতি নেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ইসরাইলি কর্মকর্তাদের ধারণা, এসব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে ইরানের যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। এর আগে সংঘাতের পর ইরানের দ্রুত সামরিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধারের বিষয়টিও বিভিন্ন মূল্যায়নে উঠে এসেছিল।

আলোচনার বিষয়ে অবগত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নেতানিয়াহু নির্ধারিত পরিকল্পনা ও সময়সূচি অনুযায়ী জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করতে চান। ইরানের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধে জড়িয়ে ইসরাইল জরুরি পরিস্থিতির মুখে পড়লে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

তবে ইরানের সামরিক প্রস্তুতি এবং তৎপরতার গতির ওপর পরিস্থিতির পরিবর্তন নির্ভর করছে বলে সতর্ক করেছেন কর্মকর্তারা। নতুন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইসরাইলের নিরাপত্তাবিষয়ক মূল্যায়নও হালনাগাদ করা হচ্ছে।

ইরানে নতুন সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা

নির্বাচনের আগে উত্তেজনা এড়িয়ে চলার আগ্রহ থাকলেও ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করছে না ইসরাইল।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি বদলে গেলে আত্মরক্ষার স্বার্থে ইসরাইলকে সামরিক পদক্ষেপ নিতে হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতির সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী পিট হেগসেথ সোমবার আকস্মিক ও সংক্ষিপ্ত সফরে ইসরাইল যান। দক্ষিণ ইসরাইলের ওভদা বিমানঘাঁটিতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নিরাপত্তাবিষয়ক আলোচনা জোরদার হওয়ার প্রেক্ষাপটে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ, জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান শমুয়েল বেন এজরা এবং অন্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের আলোচনা

ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে নিরাপত্তাবিষয়ক আলোচনা চলার মধ্যেই হেগসেথের এ অঘোষিত সফর অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় নতুন করে অভিযান চালানোর সম্ভাবনাও গুরুত্ব পেয়েছে।

তবে বৈঠকে কী কী বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সে সম্পর্কে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কিংবা পেন্টাগন আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি। হেগসেথের সফরের আগে প্রকাশ্যে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। এমনকি তার সফরের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিও জানানো হয়নি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেরুজালেমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কিংবা তেল আবিবের কিরিয়া সামরিক সদর দপ্তরের পরিবর্তে দক্ষিণ ইসরাইলের একটি সামরিক ঘাঁটিতে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। ওই ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা এবং ইরানকে ঘিরে দুই দেশের চলমান আলোচনার প্রেক্ষাপটে বৈঠকের স্থানটিকেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।