শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

অভিনয় থেকে ক্রিকেট ও ব্যবসা, যেভাবে ১০ হাজার কোটি রুপির সম্পদের মালিক শাহরুখ

টেলিভিশনে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন শাহরুখ খান। এরপর সিনেমা, প্রযোজনা, ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস (ভিএফএক্স), ক্রিকেট, বিজ্ঞাপন এবং বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগের মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন বিশাল এক সাম্রাজ্য। তিন দশকের বেশি সময়ের এই যাত্রায় অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তও তাঁকে নিয়ে গেছে সম্পদের শীর্ষে। হুরুন ইন্ডিয়ার ২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার কোটি রুপি, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। কিন্তু কোন পথে এই বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলিউডের এই তারকা?

অভিনয় থেকে ক্রিকেট ও ব্যবসা, যেভাবে ১০ হাজার কোটি রুপির সম্পদের মালিক শাহরুখ
ছবি: শাহরুখ খান

টেলিভিশনে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন শাহরুখ খান। এরপর সিনেমা, প্রযোজনা, ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস (ভিএফএক্স), ক্রিকেট, বিজ্ঞাপন এবং বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগের মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন বিশাল এক সাম্রাজ্য। তিন দশকের বেশি সময়ের এই যাত্রায় অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তও তাঁকে নিয়ে গেছে সম্পদের শীর্ষে। হুরুন ইন্ডিয়ার ২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার কোটি রুপি, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। কিন্তু কোন পথে এই বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলিউডের এই তারকা?

শাহরুখ খান এখন শুধু অভিনেতা নন; তিনি প্রযোজক, ব্যবসায়ী, ক্রিকেট দলের মালিক এবং বিনোদনশিল্পের একজন সফল উদ্যোক্তা। পর্দায় অভিনয়ের মাধ্যমে যেমন দর্শকের মন জয় করেছেন, তেমনি পর্দার বাইরেও নানা ব্যবসায়িক উদ্যোগের মাধ্যমে তৈরি করেছেন স্বতন্ত্র অবস্থান। তবে তাঁর এই সাফল্যের শুরুটা ছিল সাধারণ জীবন থেকেই।

১৯৬৫ সালের ২ নভেম্বর দিল্লিতে জন্ম শাহরুখের। তাঁর বাবা মীর তাজ মোহাম্মদ খান ছিলেন ব্যবসায়ী ও সমাজকর্মী। মা লতিফ ফাতিমা ছিলেন ম্যাজিস্ট্রেট। দিল্লির সেন্ট কলম্বাস স্কুলে পড়াশোনা শেষ করে হংসরাজ কলেজে ভর্তি হন তিনি। পরে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ায় গণযোগাযোগ বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করলেও অভিনয়ের প্রতি আগ্রহের কারণে তা শেষ করেননি। থিয়েটার ও টেলিভিশনে কাজ করার মধ্য দিয়েই বড় পর্দায় অভিনয়ের স্বপ্ন গড়ে ওঠে তাঁর।

১৯৯১ সালে মুম্বাইয়ে পাড়ি জমান শাহরুখ। পরের বছর ‘দিওয়ানা’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় পরিচিতি পান। তখন তাঁর ভবিষ্যৎ সাফল্যের ব্যাপ্তি সম্পর্কে ধারণা করা কঠিন ছিল। অথচ একসময় তিনিই হয়ে ওঠেন বিশ্বের অন্যতম ধনী অভিনয়শিল্পীদের একজন।

সিনেমার পারিশ্রমিক থেকে ব্যবসায়িক মালিকানা

শাহরুখের সম্পদ গড়ার প্রথম বড় উৎস ছিল অভিনয়। নব্বইয়ের দশকে ‘বাজিগর’, ‘ডর’, ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’, ‘দিল তো পাগল হ্যায়’ ও ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করে তারকাখ্যাতি অর্জন করেন তিনি। ধারাবাহিকভাবে সফল সিনেমার কারণে বাড়তে থাকে তাঁর পারিশ্রমিক। তবে অন্য অনেক তারকার মতো শুধু নির্দিষ্ট পারিশ্রমিকের মধ্যেই নিজের আয় সীমাবদ্ধ রাখেননি।

একপর্যায়ে সিনেমার লাভের অংশীদার হওয়ার পদ্ধতিও গ্রহণ করেন শাহরুখ। অর্থাৎ নির্দিষ্ট পারিশ্রমিকের পাশাপাশি কোনো সিনেমা ব্যবসায়িকভাবে সফল হলে সেখান থেকেও আয়ের সুযোগ তৈরি করেন। ‘পাঠান’ ও ‘জওয়ান’-এর মতো ব্যবসাসফল সিনেমা এই কৌশলের আর্থিক গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে। অভিনয় থেকে পাওয়া অর্থ ব্যবসায় বিনিয়োগের সুযোগও তৈরি হয়েছে এভাবে।

প্রথম ব্যবসায়িক উদ্যোগে ব্যর্থতা

শাহরুখের ব্যবসায়িক যাত্রা শুরু থেকেই মসৃণ ছিল না। ১৯৯৯ সালে অভিনেত্রী জুহি চাওলা ও পরিচালক আজিজ মির্জার সঙ্গে মিলে তিনি গড়ে তোলেন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ড্রিমজ আনলিমিটেড। অভিনয়ের পাশাপাশি সিনেমা নির্মাণ এবং ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখাই ছিল এই উদ্যোগের লক্ষ্য।

প্রতিষ্ঠানটির প্রথম সিনেমা ‘ফির ভি দিল হ্যায় হিন্দুস্তানি’ মুক্তি পায় ২০০০ সালে। শাহরুখ ও জুহি অভিনীত ছবিটি বক্স অফিসে প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। পরের বছর মুক্তি পাওয়া ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের সিনেমা ‘অশোকা’ও ব্যবসায়িকভাবে বড় সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। পরপর দুটি সিনেমার ব্যর্থতায় প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক চাপের মুখে পড়ে।

তবে এই ব্যর্থতায় থেমে যাননি শাহরুখ। ২০০৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘চলতে চলতে’ তুলনামূলক ভালো ব্যবসা করে।

রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্ট: সাম্রাজ্যের অন্যতম ভিত্তি

ড্রিমজ আনলিমিটেডের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে শাহরুখ নিজের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা আরও বিস্তৃত করেন। ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্ট ধীরে ধীরে তাঁর ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হয়ে ওঠে। স্ত্রী গৌরী খানও প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।

২০০৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ম্যায় হু না’ ছিল প্রতিষ্ঠানটির উল্লেখযোগ্য প্রযোজনাগুলোর একটি। এরপর ‘ওম শান্তি ওম’, ‘বিল্লু’, ‘চেন্নাই এক্সপ্রেস’, ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’, ‘দিলওয়ালে’, ‘রইস’ ও ‘জওয়ান’-এর মতো সিনেমার নির্মাণ ও প্রযোজনায় যুক্ত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

রেড চিলিজের কার্যক্রম শুধু সিনেমা নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। চলচ্চিত্রের স্বত্ব, পরিবেশনা, ডিজিটাল কনটেন্ট এবং পোস্ট-প্রোডাকশন সেবাও এর ব্যবসার অংশ হয়েছে। ফলে সিনেমা মুক্তির পরও স্বত্ব ও অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যবহারের মাধ্যমে আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ কারণে শাহরুখের সম্পদ বৃদ্ধিতে অভিনয়ের পাশাপাশি সিনেমার মালিকানা ও ব্যবসায়িক অধিকারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

ভিএফএক্স ব্যবসায় বিনিয়োগ

সিনেমা ব্যবসার পাশাপাশি ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস বা ভিএফএক্স খাতেও বিনিয়োগ করেন শাহরুখ। সিনেমায় পর্দার সামনে অভিনয় যতটা গুরুত্বপূর্ণ, পর্দার পেছনে প্রযুক্তিগত কাজেরও রয়েছে বড় বাজার। এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে রেড চিলিজের অধীনে গড়ে তোলা হয় রেড চিলিজ ভিএফএক্স।

‘রা.ওয়ান’, ‘কৃষ থ্রি’, ‘ফ্যান’ ও ‘জিরো’র মতো সিনেমায় ভিজ্যুয়াল ইফেক্টসের কাজ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি অন্য প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সিনেমায়ও কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এই উদ্যোগে শাহরুখের ব্যবসায়িক পরিকল্পনার একটি দিক স্পষ্ট হয়। তিনি শুধু নিজের অভিনীত সিনেমায় অর্থ বিনিয়োগ করেননি, বরং সিনেমা নির্মাণের প্রযুক্তি ও দক্ষতাকেও ব্যবসায়িক সম্পদে রূপ দিয়েছেন।

ক্রিকেটে বিনিয়োগ, কলকাতা নাইট রাইডার্স

শাহরুখের সম্পদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগগুলোর একটি ক্রিকেট। ২০০৮ সালে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) প্রথম আসরের আগে কলকাতা নাইট রাইডার্সের মালিকানায় যুক্ত হন তিনি। অভিনেত্রী জুহি চাওলা ও তাঁর স্বামী জয় মেহতার সঙ্গে মিলে দলটি কেনেন। সে সময় এ জন্য প্রায় ২৬২ কোটি রুপি বিনিয়োগের কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসে।

প্রথম দিকে কেকেআরের পারফরম্যান্স প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। প্রথম তিন আসরে দলটি ভালো ফল করতে ব্যর্থ হয়। তবে শাহরুখ বিনিয়োগ থেকে সরে আসেননি। ২০১২ সালে প্রথমবার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয় কলকাতা নাইট রাইডার্স। ২০১৪ সালে দ্বিতীয়বার শিরোপা জেতে দলটি। এরপর ২০২৪ সালেও চ্যাম্পিয়ন হয় কেকেআর।

ক্রিকেটে এই বিনিয়োগ শুধু আইপিএলেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ক্যারিবীয় প্রিমিয়ার লিগের ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্স এবং যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ ক্রিকেটের লস অ্যাঞ্জেলেস নাইট রাইডার্সসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগিতায় নাইট রাইডার্স ব্র্যান্ডের বিস্তার ঘটেছে।

বিজ্ঞাপনে শাহরুখের বড় বাজার

বিজ্ঞাপন থেকেও বিপুল আয় করেন শাহরুখ। তিন দশকের বেশি সময় ধরে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড দূত হিসেবে কাজ করছেন তিনি। গাড়ি, ঘড়ি, পানীয়, প্রযুক্তিপণ্য, ব্যাংকিং ও টেলিযোগাযোগসহ নানা খাতের বিজ্ঞাপনে দেখা গেছে তাঁকে।

বিজ্ঞাপনের বাজারে তাঁর বড় শক্তি আন্তর্জাতিক জনপ্রিয়তা। ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশ, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাঁর ভক্ত রয়েছে। ফলে বিজ্ঞাপনে তাঁর উপস্থিতি শুধু ভারতীয় বাজারে নয়, আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছেও পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি করে।

২০২৬ সালে প্রকাশিত ভারতীয় তারকাদের ব্র্যান্ডমূল্যবিষয়ক এক প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, শাহরুখের ব্র্যান্ডমূল্য ছিল প্রায় ১ হাজার ৬৯৪ কোটি রুপি।

মান্নাত থেকে দুবাই, আবাসনেও বড় সম্পদ

শাহরুখের সম্পদের তালিকায় তাঁর বিলাসবহুল বাড়িগুলোও উল্লেখযোগ্য। মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় সমুদ্রের দিকে মুখ করে থাকা ‘মান্নাত’ শুধু তাঁর বাসভবন নয়, ভক্তদের কাছেও এটি একটি দর্শনীয় স্থান। একসময় বাড়িটির নাম ছিল ভিলা ভিয়েনা। পরে শাহরুখ এটি কিনে সংস্কার করেন। বাড়িটির অভ্যন্তরীণ নকশায় স্ত্রী গৌরী খান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

এ ছাড়া দুবাইয়ের পাম জুমেইরায় রয়েছে তাঁর একটি বিলাসবহুল ভিলা। লন্ডন ও ভারতের আলিবাগেও তাঁর সম্পত্তি থাকার খবর বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত হয়েছে।

পরিবারের সঙ্গে ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব

শাহরুখের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করা। স্ত্রী গৌরী খান তাঁর জীবনসঙ্গী হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসারও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্টের সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি নিজের ইন্টেরিয়র ডিজাইনের প্রতিষ্ঠানও পরিচালনা করেন তিনি।

ছেলে আরিয়ান খানও বিনোদন ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন। ২০২৫ সালে নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়া ‘দ্য বার্ডস অব বলিউড’ দিয়ে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। মেয়ে সুহানা খানও অভিনয়ে এসেছেন। ফলে পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মও বিনোদনশিল্পের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।

১০ হাজার কোটি রুপির সম্পদ

হুরুন ইন্ডিয়া রিচ লিস্ট ২০২৬-এর হিসাব অনুযায়ী, শাহরুখ খানের মোট সম্পদের আনুমানিক মূল্য ১০ হাজার কোটি রুপি। এই হিসাব তাঁকে ভারতের সবচেয়ে ধনী অভিনেতার অবস্থানে রেখেছে। তালিকায় তাঁর পরেই রয়েছেন অমিতাভ বচ্চন। তাঁর সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ৪ হাজার কোটি রুপি।

তবে আগের বছরের তালিকার সঙ্গে তুলনা করলে শাহরুখের সম্পদের পরিমাণ কমেছে। ২০২৫ সালের হুরুন তালিকায় তাঁর সম্পদের মূল্য দেখানো হয়েছিল ১২ হাজার ৪৯০ কোটি রুপি। নতুন তালিকায় তা কমে প্রায় ২ হাজার ৪৯০ কোটি রুপি হয়েছে।

দীর্ঘ অভিনয়জীবনের আয়, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান, ভিএফএক্স ব্যবসা, ক্রিকেট দল, বিজ্ঞাপন এবং বিভিন্ন সম্পত্তিতে বিনিয়োগ—সব মিলিয়েই গড়ে উঠেছে শাহরুখ খানের এই বিশাল সম্পদের সাম্রাজ্য।