একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের পর তার যাত্রা কোথায় গিয়ে শেষ হয়? প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনের পর OTT, টেলিভিশন, আন্তর্জাতিক বাজার কিংবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কীভাবে একটি সিনেমা নতুন দর্শক ও আয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারে—এসব বিষয় সামনে রেখে অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী কর্মশালা ‘Film Business 360: সিনেমার আয়পথ, Distribution & New Markets’।
বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ ও লেখালিখির যৌথ উদ্যোগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে চলচ্চিত্রের ব্যবসায়িক সম্ভাবনা, ডিস্ট্রিবিউশন, রাইটস, লাইসেন্সিং এবং নতুন বাজার নিয়ে চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টরা আলোচনা করেন।
কর্মশালায় চলচ্চিত্রের বিভিন্ন সম্ভাব্য Revenue Streams নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এর মধ্যে ছিল থিয়েটার রিলিজ, OTT ও স্ট্রিমিং, টেলিভিশন রাইটস, আন্তর্জাতিক সেলস ও ডিস্ট্রিবিউশন, ফেস্টিভ্যাল ও গ্রান্ট, ব্র্যান্ড প্লেসমেন্ট ও স্পনসরশিপ, ইউটিউব ও ডিজিটাল মনিটাইজেশন, এয়ারলাইন ও এডুকেশনাল লাইসেন্স, মার্চেন্ডাইজিং এবং Intellectual Property (IP) থেকে আয়ের সম্ভাবনা।
কর্মশালার মেন্টর ছিলেন চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও ডিস্ট্রিবিউশনের সঙ্গে যুক্ত হাফিজুদ্দিন মুন্না। তিনি ‘The University of Chankharpul’ চলচ্চিত্রে Executive Producer ও Distributor হিসেবে কাজ করেছেন। পাশাপাশি ‘Mighty Afrin: In the Time of Floods’ চলচ্চিত্রে Assistant Director ও Executive Producer হিসেবে যুক্ত ছিলেন। ২০২৪ সালে চলচ্চিত্রটি ইরানের ৪২তম Fajr International Film Festival-এ Best Artistic Film Award অর্জন করে।
চলচ্চিত্রের পাশাপাশি development ও media activism-এর সঙ্গেও যুক্ত হাফিজুদ্দিন মুন্না Bangladesh Country Coordinating Mechanism (BCCM)-এর সদস্য এবং PLHIV Network-এর General Secretary হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
অনুষ্ঠানে সিনেমা ডিস্ট্রিবিউশন ও বিজনেসের গুরুত্ব নিয়ে বিশেষ সেশন পরিচালনা করেন লেখালিখির উদ্যোক্তা সৈয়দা ফারজানা জামান রূম্পা। তিনি চলচ্চিত্র নির্মাণের পাশাপাশি দর্শক, বাজার, ডিস্ট্রিবিউশন ও আয়ের সম্ভাবনাকে বিবেচনায় নিয়ে সিনেমার ব্যবসায়িক কাঠামো তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক ম. জাভেদ ইকবাল। তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মশালা শুধু সংশ্লিষ্টদের দক্ষ করে তোলে না, বরং সিনেমা ও ক্রিয়েটিভ জগত নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগও তৈরি করে।
বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের পরিচালক ফারহানা রহমান প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও উদ্যোগ তুলে ধরেন। প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আলী সরকার প্রকল্পের উদ্দেশ্য, কার্যক্রম ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
আয়োজকদের মতে, একটি চলচ্চিত্রের সম্ভাবনা শুধু প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। OTT, টেলিভিশন, আন্তর্জাতিক পরিবেশনা, ফেস্টিভ্যাল, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও বিভিন্ন ধরনের লাইসেন্সিংয়ের মাধ্যমে একটি চলচ্চিত্রের দর্শক ও বাজার আরও বিস্তৃত হতে পারে। তাই চলচ্চিত্র নির্মাণের পাশাপাশি ডিস্ট্রিবিউশন ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনাকেও এর সামগ্রিক যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
দিনব্যাপী কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা চলচ্চিত্রের ব্যবসায়িক দিক সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার পাশাপাশি নতুন পেশাগত নেটওয়ার্ক তৈরির সুযোগ পান। কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারীদের সার্টিফিকেটও প্রদান করা হয়।
আয়োজকদের ভাষায়, শিল্প সম্মান নিয়ে আসে, আর আর্থিক সক্ষমতা তৈরি করে নতুন করে শিল্প তৈরির সম্ভাবনা। সেই ভাবনা থেকেই চলচ্চিত্রের আয়পথ, ডিস্ট্রিবিউশন ও নতুন বাজার নিয়ে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।