দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ফিলিপাইনের দক্ষিণাংশে অবস্থিত মিন্দানাও দ্বীপে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে এর তীব্রতা ছিল ৭ দশমিক ৮।
সোমবার সকালের দিকে আঘাত হানা এই প্রবল কম্পনের পর ফিলিপাইনসহ পার্শ্ববর্তী বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রে সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাস বা সুনামির আশঙ্কায় জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূত্বাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, মাটির মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে এই ভূকম্পনটির কেন্দ্রস্থল ছিল। প্রাথমিক অবস্থায় এর মাত্রা আরও বেশি ধারণা করা হলেও পরবর্তীতে তা সংশোধন করে জানানো হয়। তীব্র এই ঝাঁকুনির পর ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ফুট উঁচুতে সমুদ্রের পানি আছড়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পাশাপাশি জাপান সরকারও উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকেও সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলের জন্য সতর্কতা বার্তা পাঠানো হয়েছে।
ফিলিপাইনের নিজস্ব ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র এই কম্পনের মাত্রা কিছুটা কম বললেও তারা দীর্ঘ সময় ধরে জলোচ্ছ্বাসের প্রভাব থাকার ব্যাপারে সতর্ক করেছে। একই সাথে ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া দপ্তরও ভূকম্পনের নিজস্ব পরিমাপ প্রকাশ করে সাগরে বিপজ্জনক ঢেউয়ের পূর্বাভাস দিয়েছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের কাছাকাছি থাকা বিভিন্ন শহরের বাসিন্দারা জানান, আকস্মিক এই কম্পন ছিল তাদের অভিজ্ঞতায় সবচেয়ে তীব্র। তীব্র আতঙ্কে কিছু মানুষ সাময়িকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং সরকারি কিছু স্থাপনায় ফাটল দেখা দেয়।
ভয়াবহ এই ভূকম্পনের ফলে এখনো পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রতিবেশী দেশ ইন্দোনেশিয়ার উত্তরাঞ্চলেও এই কম্পন বেশ ভালোভাবেই টের পাওয়া গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার সাধারণ মানুষকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।