রবিবার, 8 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

নিষিদ্ধ সংগঠন ছাড়া সভা-সমাবেশ ও সমালোচনার অধিকার সবার: আইনমন্ত্রী

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ব্যতীত যেকোনো রাজনৈতিক দল বা নাগরিকের সভা-সমাবেশ করা এবং সরকারের কাজকর্মে সমালোচনা করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে বলে ব্যক্ত করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

নিষিদ্ধ সংগঠন ছাড়া সভা-সমাবেশ ও সমালোচনার অধিকার সবার: আইনমন্ত্রী

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ব্যতীত যেকোনো রাজনৈতিক দল বা নাগরিকের সভা-সমাবেশ করা এবং সরকারের কাজকর্মে সমালোচনা করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে বলে ব্যক্ত করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

একই সাথে সাধারণ মানুষ যাতে কোনো প্রকার ভয়ভীতি ছাড়া নিজেদের বক্তব্য ও মতামত প্রকাশ করতে পারে, সেই নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব বলে তিনি উল্লেখ করেন।


সোমবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই সব কথা বলেন।

দেশের অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আইনমন্ত্রী জানান, বিগত ছয় মাসে দেশে গুমের একটি ঘটনা ঘটেছে এবং অন্য আরও তিনটি অভিযোগের বিষয়ে নিখুঁত তদন্ত কার্যক্রম চালু রয়েছে। জোরপূর্বক গুমের ঘটনার বিষয়ে বর্তমান সরকার যে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতার নীতি বজায় রাখছে, সে কথা তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

দেশের আদালতে অমূলক ও মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রসঙ্গে তিনি স্বীকার করেন যে পুরোপুরি মিথ্যা মামলা বন্ধ করা সম্ভব না হলেও এ বিষয়ে প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণে সরকার সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।

একই সাথে মানবাধিকার রক্ষা ও গুম প্রতিরোধ সম্পর্কিত আইনের আইনি জটিলতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিদ্যমান বিধিমালার কিছু জায়গায় অস্পষ্টতা ও জটিলতা পরিলক্ষিত হয়েছে। এসব বিষয় গভীরভাবে যাচাই-বাছাই ও প্রয়োজনীয় সংশোধন শেষে আইনটি চূড়ান্ত করে জাতীয় সংসদে উত্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়ার বিষয়ে মো. আসাদুজ্জামান মন্তব্য করেন, ১৯৭২ সালের মূল সংবিধান যতদিন বলবৎ থাকবে, সময় ও পরিস্থিতির চাহিদা অনুযায়ী তাতে প্রয়োজনীয় সংস্কার বা পরিবর্তন আনতে হবে। তবে এ সংক্রান্ত নির্দিষ্ট কমিটির প্রস্তাবনা ও আনুষ্ঠানিক নাম এখনো চূড়ান্ত হয়ে সরকারের হাতে পৌঁছায়নি।

দেশের আগামীর যাত্রাপথ নিয়ে আশা প্রকাশ করে আইনমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান যে, দেশ কোনোভাবেই পেছনের দিকে ফিরে যাবে না, বরং ভুলের মধ্য দিয়েই শিক্ষা নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে চলাই সরকারের লক্ষ্য। জুলাই সনদের দেখানো নীতি ও আদর্শ রূপায়ণের পথ ধরেই বর্তমান প্রশাসন পরিচালনা করার দৃপ্ত অঙ্গীকার প্রকাশ করেন তিনি।